Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রামে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ মে ২০২৬ ২০:০৮

মৎস্যজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলন।

চট্টগ্রাম: কর্ণফুলী নদীর তীরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম নতুন মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগসহ মামলা করার পরও তাদেরকে কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নগরীর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের অফিসে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সোলাইমান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে আমরা লিজ নিয়ে এই মাছ বাজার প্রতিষ্ঠা করি। মাছ বাজার থেকে প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাছ যায় এবং বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে আসে। এই মাছ বাজার থেকে দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। মানুষের কর্মসংস্থান ছাড়াও এখান থেকে মাছ রফতানি করে সরকার আয় করছে বৈদেশিক মুদ্রা।’

বিজ্ঞাপন

কিন্তু কিছু চিহ্নিত চাঁদাবাজ, নবান খান, আতিক মাঝি, ফারুক হোসেন ও নুরুল কবির মাঝিসহ সংঘবদ্ধ আরও ২০-২৫ জন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ নিয়ে আসা নৌকা থেকে জোর করে টাকা নেওয়া, মাছ ছিনিয়ে নেওয়া, এখানে ব্যবসা করতে আসা ব্যবসায়ী এবং আড়তদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, লিজ নেওয়া জায়গায় জোরপূর্বক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ করে আসছে; যার কারণে এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ব্যবসায়ীরা আর মাছ নিয়ে আসতে চাইছে না, তারা সবসময় আতঙ্কে থাকছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, একমাত্র মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি ধ্বংসের জন্য এই চক্র উঠেপড়ে লেগেছে, যার কারণে দীর্ঘদিনের বাজারটি হারিয়ে ফেলছে তার ঐতিহ্য।

চাঁদা না দিলে বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি করে বাজারের পরিবেশ নষ্ট করছে চক্রটি। ফলে বাজারে বড় বড় নৌকায় ও জাহাজে করে আর মাছ নিয়ে আসতে চায় না ব্যবসায়ীরা, তারা অন্যান্য বাজারে চলে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে না পারায় দিন দিন পুঁজি হারিয়ে ফেলছে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সোলাইমান আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। তাই সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি… চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা না হলে বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সকল সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক আশীষ কুমার বড়ুয়া, উপ-মহাব্যবস্থাপক আমীর হোসেন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আলী আকবর, সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী, সোনালী যান্ত্রিকের পরিচালক প্রবীর দাশ ও মো. কাউসারুজ্জামান এবং ঘাট মাঝি আবদুল মোনাফসহ আরও অনেকেই।