চুয়াডাঙ্গা: জেলার সদর উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামে ১৫ বছরের কিশোরীকে ভুট্টাখেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মোবাইলফোনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে তিন ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ মে) গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুন্দিপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করে। তবে এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মিরাজ এখনও পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল বিকালে ছাগল আনতে মাঠে যায় ওই কিশোরী। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা মিরাজ তাকে জোর করে ভুট্টাখেতে টেনে নিয়ে ধর্ষণ করে। পলাশ আলী (২০) পুরো ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলফোনের ক্যামেরায় ভিডিও করে এবং জনি হোসেন (২১) বাইরে পাহারা দেয়।
ধর্ষণের পর তিনজন মিলে মেয়েটিকে হুমকি দিয়ে বলে যে, ধর্ষণের ঘটনা বিষয়ে মুখ খুললে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হবে। সেই ভয়ে মেয়েটি পরিবারকেও কিছু জানাতে পারেনি। পরে ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর মঙ্গলবার (১৯ মে) হঠাৎ করেই ধর্ষণের সেই ভিডিও এলাকার বিভিন্নজনের মোবাইলেফোনে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষকচক্র নতুন ফাঁদ পাতে।
এজাহারে ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, আসামি পলাশ ভিডিও সরিয়ে ফেলতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে, আর আব্দুল আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি সামাজিক মীমাংসার নামে ভিডিও ডিলিট করতে ৫ হাজার টাকা চায়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার খবর পুলিশের নজরে আসামাত্রই তৎপর হয় সদর থানা পুলিশ। ওইদিন রাতেই কুন্দিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় কাদের ব্যাপারির ছেলে আব্দুল আলী (৪৫), মণ্ডল পাড়ার হোসেন আলীর ছেলে জনি হোসেন (২১) ও আব্দুল কাদেরের ছেলে পলাশ আলীকে (২০)। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে চারজনের নামে সদর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালাই। তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা শেষ এবং আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।’
তিনি আরও জানান, মূল অভিযুক্ত মিরাজকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। তাকেও খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।