Saturday 23 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পঞ্চগড় প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল
জনবল-ওষুধ সংকটে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা, বাড়ছে গবাদিপশুর রোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ মে ২০২৬ ০৮:১৪

অসুস্থ একটি ছাগল নিয়ে প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে আছিয়া বেগম। ছবি: সারাবাংলা

পঞ্চগড়: অব্যাহত বৃষ্টিপাত, বৈরী আবহাওয়া ও সীমান্তবর্তী চা বাগানে বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাবে পঞ্চগড়ে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে জেলা সরকারি প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।

খামারি ও স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অসুস্থ পশুপাখি নিয়ে মানুষ সরকারি ভেটেরিনারি হাসপাতালে আসে। কিন্তু সীমিত সরকারি ওষুধ সরবরাহের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে হয়।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গত এক মাস ধরে টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ও বাংলাদেশি চা বাগানে কীটনাশক স্প্রের প্রভাবেও পশুর রোগবালাই বেড়েছে। তবে, সীমিত জনবল নিয়েও তারা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে প্রতি বছরের মতো এবারও জেলায় লাম্পি রোগের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। যদিও মাঠপর্যায়ে আগাম সতর্কতামূলক পরামর্শ ও টিকাদান কার্যক্রম চালানোর কারণে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি প্রাণিসম্পদ বিভাগের। তবুও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে ঈদুল আজহাকে ঘিরে ছোট-বড় খামারিরা উদ্বেগ বেড়েছে। বর্তমানে গরু-ছাগলের সর্দি, জ্বর, পেটফাঁপা, খুরা রোগসহ নানা রোগবালাই দেখা দেওয়ায় চিকিৎসাসেবার চাপও বেড়েছে কয়েকগুণ।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া প্রধানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া বেগম অসুস্থ একটি ছাগল নিয়ে প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে আসেন। তিনি বলেন, ‘তিন-চার দিন ধরে ছাগলটি কিছু খাচ্ছে না, পেটও ফুলে আছে। হাসপাতাল থেকে একটি ইনজেকশন দিয়েছে, বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বলেছে। কিন্তু টাকার অভাবে এখনই ওষুধ কিনতে পারছি না।’

খামারিদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না, আবার সময়মতো চিকিৎসকও মেলে না। অনেক সময় অতিরিক্ত ভিজিট দিয়ে চিকিৎসক আনতে হয়। জরুরি চিকিৎসাসেবাও প্রায় অনুপস্থিত বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোছা. আশা আনার কলি বলেন, ‘আমরা বছরে একবার ওষুধের বরাদ্দ পাই, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। সেই ওষুধ দিয়েই জরুরি সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এছাড়া জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামেরও ঘাটতি রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়াগত কারণে পঞ্চগড়ে পশুপাখির রোগবালাই তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর