সিরাজগঞ্জ: পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় যমুনা সেতু এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে সেতুর পূর্বপাড়ে যানজট ও ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীরা। এদিকে ভোর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বুধবার (২৭ মে) ভোর থেকে দিনভর যমুনা সেতুর উভয় প্রান্তে যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা যায়। ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়া বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় পূর্বপাড় এলাকায়। টোল প্লাজা পার হতে অনেক যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হওয়ায় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
তবে সিরাজগঞ্জের পশ্চিমপাড় এলাকায় অতিরিক্ত চাপ থাকলেও বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং মাঝে ভারী বর্ষণের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহী ও খোলা যানবাহনের যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে রাস্তার পাশে থেমে বৃষ্টি থেকে বাঁচার চেষ্টা করেন। যানজটে আটকে থাকায় শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।
ঢাকা থেকে বগুড়াগামী যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ভোরে রওনা দিয়েছি। পূর্বপাড়ে এসে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ছোটো বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়েছে।’
যানচালক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘গাড়ির চাপ অনেক বেশি। তবে পশ্চিমপাড়ে পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যরা কাজ করায় যানজট কম হয়েছে। ধীরগতিতে হলেও গাড়ি চলাচল করছে।’
যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। ঈদকে কেন্দ্র করে এটি চলতি সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপারের রেকর্ড বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষ্যে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে টোল আদায়ে বাড়তি বুথ চালু রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সেতু এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে সড়ক পিচ্ছিল থাকায় চালকদের সতর্কভাবে গাড়ি চালানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া রাতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।