Friday 05 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা টোল আদায়

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৫ জুন ২০২৬ ১৬:১৩

যমুনা সেতুর পশ্চিম টোল প্লাজায় গাড়ির চাপ

সিরাজগঞ্জ: সরকারি ছুটি কয়েকদিন আগে শেষ হলেও অধিকাংশ পোশাকশ্রমিকের ছুটি শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। এদিন রাত থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ যমুনা সেতু ও এর সংযোগ মহাসড়কে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে মোট টোল আদায় হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল পর্যন্ত সেতুর পশ্চিম প্রান্তে গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকরা।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর ওপর দিয়ে মোট ৪৩ হাজার ৯০৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এসব যানবাহন থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫০ টাকা, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

বিজ্ঞাপন

যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব টোলপ্লাজা দিয়ে, অর্থাৎ উত্তরবঙ্গগামী লেনে, ১৯ হাজার ৫৩৮টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে পশ্চিম টোলপ্লাজা দিয়ে, অর্থাৎ ঢাকামুখী লেনে, ২৪ হাজার ৩৭১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার ৫০ টাকা।

তিনি বলেন, ‘ঈদ-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধির কারণে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে সেতু কর্তৃপক্ষ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

এদিকে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, গারমেন্টসকর্মীদের ঢাকামুখী যাত্রার কারণে ভোর রাত থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যেই ভোররাতে যমুনা সেতুর ওপর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে একটি বাস, একটি প্রাইভেটকার ও একটি ট্রাকের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও সংঘর্ষে জড়িত যানবাহনগুলো বিকল হয়ে সেতুর একটি লেন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে ওই লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং দ্রুত যানজট তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকল যানবাহনগুলো সরিয়ে নিলে যান চলাচল আংশিক স্বাভাবিক হয়।’

ওসি আরও জানান, একই সময়ে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গারমেন্টসকর্মী বহনকারী দূরপাল্লার কয়েকটি পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ বাস বিকল হয়ে পড়ে। ফলে সেতুর উভয় প্রান্তেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং বিকল বাসগুলোর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সকাল ১১টা পর্যন্ত সেতুর পশ্চিম প্রান্তের গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় যানজট অব্যাহত ছিল। যানজট নিরসনে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং সেতু কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঈদের ছুটি শেষে আগামী কয়েকদিনও কর্মস্থলমুখী মানুষের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে যমুনা সেতু ও এর আশপাশের মহাসড়কে যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় যাত্রীদের ধৈর্য ধরে ভ্রমণ করার পাশাপাশি যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা করে রাস্তায় নামানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর