বেনাপোল: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ট্রাকটিতে আমদানিকৃত সরিষার খৈলের ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি পণ্যের ঘাটতি পাওয়া গেছে। ঘটনাটিকে ঘিরে চোরাচালান বা পণ্য পাচার চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ১০টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩১ নম্বর শেড ইয়ার্ড থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ভারতীয় ট্রাকটি গত ২৩ জুন রাতে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে ২৫ জুন ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের উদ্দেশ্যে যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকটিতে থাকা কিছু পণ্য ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশের আগেই অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ট্রাকটি ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) এলাকায় প্রবেশ করলে কর্তৃপক্ষ সেটি আটক করে এবং কাস্টমসকে অবহিত করে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। জব্দ করা পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নীট ওজন পাওয়া যায় ৬ হাজার ৯১৩ কেজি।
সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, ‘ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি খৈল থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে পাওয়া গেছে মাত্র ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। অর্থাৎ ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি লিখিতভাবে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে অবহিত করেছেন। আবেদনে তিনি দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম অপব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাক কিংবা ওই চালান গ্রহণে তাদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি না করার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে, পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র কৌশলে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালের নাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।