Friday 24 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মুরগির দাম কমলেও সবজি-মাছের উত্তাপে অস্বস্তি ক্রেতাদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৪৬

ঢাকা: রাজধানীর বাজারে মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও কাঁচাবাজারে সবজির দামে যেন আগুন। মুরগিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা কমলেও হু হু করে বেড়েছে সবজির দাম। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি। আর প্রকারভেদে মাছেও দাম বেড়েছে এই সপ্তাহে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ান বাজার, মগবাজারের ও মহাখালীর বাজারগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে সোনালি মুরগি যেখানে ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা ছিল, তা আজ কমে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পোল্ট্রি মুরগিও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি মুরগির দামও ৬০ থেকে ৭০ টাকা কমে আজ বিক্রি হচ্ছে ৭২০ টাকা দরে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা। এদিকে গরুর মাংস আজও বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি দরে।

বিজ্ঞাপন

সবজির বাজারে দেখা গেছে, পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ থেকে ১২০ টাকা, সিম ৯০ টাকা, কাঁচকলা হালি ৩৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর ১নম্বরের বাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আরমান হোসেন বলেন, মুরগির দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা কমলে কী হবে? সবজির বাজারে তো হাত দেওয়া যায় না। একটা কিনলে আরেকটা কেনার টাকা থাকে না। সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝার যেন কেউ নেই।

কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, মুরগি তো প্রতিদিন খাই না, কিন্তু সবজি তো প্রতিদিন লাগে। সবজির বাজারে গেলেই মনে হয় পকেট ডাকাতি হচ্ছে।

মিরপুরে মুরগি ব্যবসায়ী সালমান বলেন, খামারে মুরগির ঘাটতি থাকায় হঠাৎ করে মুরগির দাম বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন আবার মুরগির উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় কেজিতে মুরগির দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সামনে আরও কমবে। তবে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার যে প্রভাব পড়ার কথা ছিল, সেটা তেমন অনুভব হচ্ছে না বাজারে মুরগির আমদানি বেশি হওয়ায়।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি সবজির কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি যোগ হচ্ছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

অন্যদিকে, মাছের দাম কেজিতে প্রকারভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। ২২০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙ্গাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা, যা গত তিন দিন আগেও বিক্রি হতো ৩০০ টাকা দরে। আর দুই কেজির চেয়ে বেশি ওজনের রুই মাছ ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংরাসহ সব মাছই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে আজ বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র বাজারে অভিযান চালিয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সামগ্রিকভাবে সুন্দর পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া, ব্যবসায়ীরা নৈতিকতা বজায় না রাখলে, মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি না হলে এই দুরাবস্থা থেকে মুক্তি কঠিন। তবে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা ও পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে পণ্যের দাম কমিয়ে আনা সম্ভব।

 

 

সারাবাংলা/এমএইচ/ এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর