ঢাকা: রাজধানীর সবুজবাগের গৃহবধু আফরোজা আইরিন (৪৮), ভাটারার প্রবাস ফেরত তামিম মোস্তফা (২২), ডেমরার ব্যবসায়ী জীবন মিয়া (৩৩), যাত্রাবাড়ীতে অজ্ঞাত যুবক (২৫) ও আজিমপুরের বৃদ্ধা আঙ্গুরনেছা (৭২)। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে এই পাঁচজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এর মধ্যে লালবাগের আজিমপুর রোডের একটি বাড়ির ৮ম তলার বেলকোনি থেকে নিচে পড়ে যান আঙ্গুর নেছা (৭২) নামে এক বৃদ্ধা। এদিন বিকেলের দিকে ঘটনাটি ঘটে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় ছেলে মোর্তজা কামাল তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক সন্ধ্যার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে ছেলে মোর্তজা কামাল জানান, তাদের বাসা লালবাগের আজিমপুরে। বিকেলে তার মা ৮ম তলার বেলকোনিতে যায়। সেখান থেকে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যায়। পরে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এলে মারা যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি লালবাগ থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
এর আগে বুধবার দুপুরে মুগদা হাসপাতাল থেকে আফরোজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ডান হাতের কনুইয়ের পিছনে কালো দাগ, ডান হাতের বিভিন্ন জায়গায় কালো দাগ রয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে তার সঙ্গে তার সৎ ভাই ও ভাবির তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে তাদের ধাক্কায় ইটের রাস্তার উপর পড়ে অচেতন হয়ে পড়েন আফরোজা। এর পর পরিবারের লোকজন তাকে মুগদা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেদিন দুপুরেই সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, আফরোজার বাবার নাম একেএম আনোয়ারুল্লাহ। তাদের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুর। বর্তমানে সবুজবাগ বাসাবো আহমেদবাগ এলাকার একটি বাসায় থাকতেন তারা।
বুধবার রাতে ভাটারা কুড়িল বিশ্বরোড মেম্বার বাড়ি রোড চান মিয়ার বাসার ৪র্থ তলার মেস থেকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তামিমের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসার পর থেকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এই কারণেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম শাহ সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন তামিমের বাবার নাম কামাল মোস্তফা। তার বাড়ি জয়পুরহাটের পাচঁবিবি থানা এলাকায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ডেমরা পশ্চিম হাজীনগর প্রাইম কেয়ার ডায়াগোনেস্টিক সেন্টারের পাশে ক্যানেলপাড়সংলগ্ন ডিঅ্যান্ডডি খাল থেকে জীবন মিয়া নামে ওই যুবকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। খালের পাশে একটি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গোড়ায় পানি জমে থাকায় সেই খুঁটিটি বিদ্যুতায়িত হয়েছিল; জীবন যখন সেই খুঁটিতে হাত দেন, তখন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে মারা যান। জীবনের বাবার নাম আব্দুল মজিদ মিয়া। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ মুড়াপাড়া দড়িকান্দি এলাকায়। ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যবসা ও মাছের খামার রয়েছে তার।
অপরদিকে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন জানান, শনিরআখড়া রাস্তার আইল্যান্ডের উপর থেকে বৃহস্পতিবার সকালে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। বয়স আনুমানিক (২৫) বছর। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।