চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি তোফাজ্জল হোসেনকে তার এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ফেনীর সদর থানাধীন মহিপাল বাসস্টান্ড ও নগরীর পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন- ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার দৌলতপুর এলাকার মো. হারেছের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (৩৬) ও নগরীর পতেঙ্গা থানাধীন ধুমপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. মানিক (২৭)।
বিষয়ট নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি জানান, পতেঙ্গার এক নারীর ২০২৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তার একটি ৫ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর তোফাজ্জেল হোসেন নামে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। তোফাজ্জল ওই নারীকে জোরারগঞ্জ এলাকার জেনারেল হাসপাতালে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর তোফাজ্জল ওই নারীকে সেখানে একটি বাসা ভাড়া করে দেন। সেই বাসায় এসে তাকে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে। এ সময় তোফাজ্জল ওই নারীর বিভিন্ন নগ্ন ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে রাখে।
তিনি আরও জানান, পরে ওই নারী বিয়ের কথা বললে তাকে প্রায় মারধর করে তোফাজ্জল। পরে ওই নারী নগরীর আকবরশাহ থানা এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। তোফাজ্জল ওই নারীর ঠিকানা সংগ্রহ করে তার বাসায় যায় এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত না হলে ধারণকরা নগ্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
সম্প্রতি মানিক নামে আরেক যুবকের কাছে এসব ছবি ও ভিডিও দেয় এবং গত ৮ এপ্রিল মানিক ওই নারীর মোবাইলে এসব ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এমনকি তার সঙ্গে হোটেলে যাওয়ার কথা বলে না গেলে এসব ছবি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ও তাকে গণধর্ষণের হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় ওই নারী ১০ এপ্রিল জোরারগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামি তোফাজ্জেল ফেনীর মহিপাল বাসস্টান্ড এলাকায় অবস্থান করছে; এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে র্যাবের আরেকটি দল পতেঙ্গা থানাধীন ধুমপাড়া এলাকা থেকে মানিক নামে অপর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামিদের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।