Thursday 16 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৩ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দিবে চসিক: মেয়র ডা. শাহাদাত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪৩

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় ৩ লাখেরও বেশি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নগরীর লালদিঘীর পাড়ে চসিক পাবলিক লাইব্রেরি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। বক্তব্য দেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) শেখ ফজলে রাব্বী, সিভিল সার্জন ড. জাহাঙ্গীর আলম, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ডা. হোসনে আরা, ডা. তপন কুমার, ডা. খাদিজা আহমেদ, ডা. আব্দুল মজিদ শিকদার, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ডা. ইমং প্রো চৌধুরী ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ফাহমিদা বেগম।

বিজ্ঞাপন

মেয়র বলেন, ‘হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি জানান, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতিত) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

চসিক সূত্রে জানা যায়, এবারের ক্যাম্পেইনে ৭টি জোনের ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ৩ লক্ষ ৩০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৪৮টি স্থায়ী টিম, ২০৫টি অস্থায়ী টিম, ৪১টি মপ-আপ টিম এবং ১৪টি সন্ধ্যাকালীন টিকাদান সেশন চালু থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে নিবন্ধন না থাকলেও কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হবে না। বিশেষ করে বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে।

মেয়র আরও জানান, ক্যাম্পেইন সফল করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতকরণ, ধর্মীয় নেতারা ও শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা, মাইকিং ও গণসচেতনতা কার্যক্রম।

তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচি সফল করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সাংবাদিক, শিক্ষক, ইমাম, পেশাজীবীসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই আমরা একটি সুস্থ, নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারব।’

আগামী ২০ এপ্রিল সকাল ১০টায় চসিক জেনারেল হাসপাতাল মিলনায়তনে এই টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদফতর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা সহযোগিতা করছে।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর