Friday 22 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রামের বাকলিয়া শিশু ধর্ষণ, আদালতে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ মে ২০২৬ ০০:৩২

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মনির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলায়মান। তিনি বলেন, ‘বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত মনির হোসেন শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানববন্দি রেকর্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চাকরিজীবী মা-বাবার চার বছরের এক কন্যাশিশুকে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী মনির হোসেন একটি গুদামে নিয়ে ধর্ষণ করে।

বিকেলের দিকে একটি ভবনের সিঁড়িতে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত মনিরকে আটক করে। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় তারা অভিযুক্তকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান।

একপর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্তকে একটি ভবনের ভেতরে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিক্ষোভকারীরা ভবনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এলাকাবাসীকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। রাত ৮টার দিকে উত্তেজনা চলার মধ্যে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড মেরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।

তারা এদিক-সেদিক ছড়িয়ে গেলেও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায় ৭ জন সাংবাদিক আহত হন। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত যুবক মনিরকে উদ্ধার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এই সময় স্থানীয় জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি সূত্র জানায়, শিশুটি হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীর রয়েছে এবং বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, দেখতে হাসপাতালে যান এবং শিশুটির পরিবারের পাশে থাকার কথা জানান।

সারাবাংলা/এসএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর