চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবাকে অপহরণ ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে দুই বছর পর তার ছেলে বেলাল হোসেন (৩৫) ও সহযোগী আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) এস. এম. রফিকুল ইসলাম।
পিবিআই জানায়, শনিবার (১৩ জুন) কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকা থেকে বেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে পরদিন জোরারগঞ্জের ঘেড়ামারা এলাকা থেকে আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নিহত মীর মুজিবুর রহমান (৬০) পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি চারটি বিয়ে করেছিলেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ক্যানসারের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের অধিকাংশ জমি বিক্রি করে দেন। শেষ বয়সে তার অবশিষ্ট ছিল বসতভিটার একটি ছোটো অংশ। এই সম্পত্তি নিয়েই পারিবারিক বিরোধ তৈরি হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, মুজিবুর রহমান যখন অবশিষ্ট ভিটেমাটি বিক্রির উদ্যোগ নেন, তখন তার বড় ছেলে বেলাল হোসেন বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেলাল এক নারী বন্ধুর মাধ্যমে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করান। ওই নারী ফোনালাপের মাধ্যমে মুজিবুর রহমানের আস্থা অর্জন করেন এবং দেখা করার প্রস্তাব দেন। সেই সূত্রে ২০২৪ সালের ৭ জুন তিনি চট্টগ্রামে আসেন।
পিবিআই জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই বেলালের ভায়রা আব্দুল জলিল উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে সিএনজি অটোরিকশায় সিআরবি এলাকায় এবং সেখান থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে হালিশহর আউটার রিং রোড এলাকায় নেওয়া হয়। চলন্ত মাইক্রোবাসে গামছা পেঁচিয়ে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পিবিআই দাবি করেছে। এ ঘটনায় বেলাল ও আব্দুল জলিল সরাসরি অংশ নেন বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।
হত্যার পর মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। পরদিন পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে লাশ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত বেলাল হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য সহযোগীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।