ঢাকা: বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক করে প্রতারণার মাধ্যমে জুয়ার টাকা সংগ্রহ করা হতো। এমনকি, বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ আইডি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারণা করত সংঘবদ্ধ একটি চক্র। আর এই ঘটনায় রিহাদ হাসান (২৩) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, স্বনামধন্য বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক করে তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাতে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সদর থানা এলাকার নৃসিংহপুর গ্রামস্থ একটি তেল পাম্পের সামনে থেকে রিহাদ হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, গ্রেফতারকৃতের মোবাইল পর্যালোচনায় অবৈধ অনলাইন জুয়ার ৪০টি অ্যাপসের সক্রিয় উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ আইডি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় গত ২৯ জানুয়ারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্তের বিষয়টি স্বীকার করেছে। সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত জুয়া খেলত এবং প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ জুয়ায় ব্যয় করত। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক ও আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
বাদীর দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তার কর্মস্থলে অবস্থানকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের পরিচয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান। বার্তায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত দুটি বিকাশ নম্বরে অর্থ পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রতারক চক্র ফোন রিসিভ না করে বার্তার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে বাদী সরল বিশ্বাসে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকদের প্রদত্ত বিকাশ নম্বরে ৫৫ হাজার টাকা প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী
বাদী ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে ভাইস চ্যান্সেলর জানান, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড হয়েছে এবং তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি। তখন বাদী নিশ্চিত হন যে তিনি একটি পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।