Sunday 28 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফ্রান্সে স্কাইডাইভার বহনকারী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ জুন ২০২৬ ০০:০৭ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ০০:০৮

পূর্ব ফ্রান্সের টমব্লেন শহরে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে স্কাইডাইভার বহনকারী একটি বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন প্রশিক্ষক রয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় পূর্ব ফ্রান্সের টমব্লেন শহরে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।

বিবিসির খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, প্যারাশুট প্রশিক্ষণ স্কুলের ব্যবহৃত বিমানটি ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই দুর্ঘটনার শিকার হয়।

দুর্ঘটনাস্থলের কাছে সাংবাদিকদের মুর্তে-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ইভস সেগি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, বিমানটি একটি শপিং সেন্টারের কাছাকাছি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিধ্বস্ত হলেও আশপাশের কেউ হতাহত হননি।

বিজ্ঞাপন

ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমকে তিনি বলেন, ‘বিমানটি প্রায় উল্লম্বভাবে নিচে পড়ে বিমানবন্দরের সীমানা ঘেঁষা একটি আবাসিক এলাকার খুব কাছাকাছি বিধ্বস্ত হয়।’ তবে অতিরিক্ত প্রাণহানি না হওয়াকে সৌভাগ্যের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ম্যুর্ত-এ-মোজেল শাখার স্বাধীন নার্সদের সংগঠনের সভাপতি থিয়েরি পেশে জানান, নিহত স্কাইডাইভারদের অর্ধেকই ছিলেন নার্স।

ম্যুর্ত-এ-মোজেল বিভাগের প্রেসিডেন্ট শেনেস খিরুনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার সময় নিহতদের স্বজনরাও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তারা মূলত ৫ শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম স্কাইডাইভিং অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষ করতে সেখানে গিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বিমানটিকে ডান দিকে হেলে যেতে দেখেন। তিনি বলেন, ‘স্পষ্টভাবেই কিছু একটা সমস্যা হয়েছিল।’

তিনি জানান, রাস্তার পাশের উঁচু বাঁধের কারণে বিধ্বস্ত হওয়ার দৃশ্য দেখতে না পেলেও বিকট শব্দ শুনতে পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন ধরে যাওয়া বিমানের ধ্বংসাবশেষের আগুন নেভাতে সহায়তার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমরা সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পেরেছিলাম যে সব শেষ হয়ে গেছে। আঘাতটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।’

উদ্ধারকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে দুর্ঘটনাস্থলে নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য তুম্বলেন বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকা ‘কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে’ সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

ফ্রান্সের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো ঘটনাটিকে একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুঁহ নুনিয়েজ দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর