ঢাকা: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য (ভিসি) ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। তিনি জুলাই আন্দোলন চলাকালীন আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতারের পর থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা আছে, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করে। ৩০ আসামির এ মামলায় ট্রাইব্যুনাল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। রায়ে আদালত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেয় ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা (দুইজন) হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেফতার আছেন ।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা (তিনজন) হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান (জীবন), সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম (নয়ন) ও সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) বিভূতিভূষণ রায় (মাধব)। তারা সবাই পলাতক ।
অন্যান্যদের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকেও ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারাও পলাতক রয়েছেন। রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকেও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তিনি গ্রেফতার আছেন ।
মামলার অপর পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া (১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত) ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান (তিন বছর সাজাপ্রাপ্ত) সহ আরও অনেকে ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। সেদিনের একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ফাঁকা রাস্তায় হাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের বুকে লক্ষ্য করে পুলিশ সদস্যরা বারবার গুলি চালাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ড সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং পরবর্তী সময়ে গণঅভ্যুত্থানের পথকে সুগম করে।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ২৪ জুন প্রতিবেদন জমা দিলে ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গৃহীত হয়। ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরুর পর ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণা করা হয় ।
সাজাপ্রাপ্ত ৩০ আসামির মধ্যে বর্তমানে সাত জন গ্রেফতার রয়েছেন। এর মধ্যে এবার গ্রেফতার হলেন সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশীদ। বাকি আসামিদের মধ্যে যাবজ্জীবন ও অন্যান্য মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত বেশিরভাগ আসামিই পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।