Sunday 19 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতির পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুপক্ষের হট্টগোল-উত্তেজনা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০৭

ছবি: সংগৃহীত।

যশোর: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সদ্য যোগদান করা উপাচার্যের মতবিনিময় সভায় হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের সাথে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এসময় উত্তেজনা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরীফ হোসেন গ্যালারিতে এই ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রসঙ্গত, যবিপ্রবি’র ১০৩তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল যবিপ্রবিতে পঞ্চম উপাচার্য হিসাবে চার বছরের জন্য যোগদান করেন অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। যোগদানের পর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সাথে নতুন উপাচার্যের মতবিনিময়ের আয়োজন করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিকালে শুরু হয় মতবিনিময়। সভায় ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে চাইলে শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রতিবাদ জানায়। এসময় দুই পক্ষের পালটাপালটি বক্তব্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরাও অন্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য ‘গুপ্ত গুপ্ত’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে দুই পক্ষই বাগ্‌বিতণ্ডা ও পালটাপালটি স্লোগানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষকেরা উভয়পক্ষদের নির্বৃত্ত করতে গেলে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে অনুষ্ঠান শেষ না করে নিজ দফতরে চলে যান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। পরে দুই পক্ষই বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে চলে যান প্রশাসনিক ভবনের নিচে। সেখানে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি স্যারের অপমান, সইবো না, সইবো না’, ‘ক্যাম্পাসে মববাজি, চলবে না, চলবে না’ বলে নানান স্লোগান দিতে থাকে। এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রশাসনিক ভবনের নিচে ‘ক্যাম্পাসে রাজনীতি চলবে না, চলবে না বলে স্লোগান দিতে থাকে।’

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ‘সদ্য যোগদান করা উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের সাথে বিভিন্ন পরামর্শ চান। সেখানে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে আনে। তখন আমরা প্রতিবাদ জানায়। যে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির কারণে হত্যা, নির্যাতন, টেন্ডারবাজির মতো ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ছিলো, তেমনই থাকবে। একটি গোষ্ঠী অপ্রীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে উপাচার্য স্যার উঠে যেতে বাধ্য করেছেন।

ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থী ও খাদ্য, পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগ মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সালেক খান জানান, ‘আমরা রাজনীতি প্রসঙ্গ টেনে আনেনি। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে নানা বক্তব্য দেয়। সেখানে যারা বিগত সময়ে মববাজি করেছে; ঠিক তারাই আজ নতুন ভিসিকে মব সৃষ্টি করে অপমান করেছে। নানা স্লোগানের মধ্যে গ্যালারির দরজা বন্ধ করে আমাদেরসহ নবনিযুক্ত উপাচার্য স্যারকে জিম্মি করে রাখে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে যারা গুপ্ত; তারাই ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ছাত্রদল গুপ্ত কিংবা মবে বিশ্বাসী না। ভিসি স্যারকে যারা আজ মব সৃষ্টি করে অপমান করেছে তাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এই ক্যাম্পাসে সব প্রকার দলীয় রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তারই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ব্যানার বা প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো সুযোগ এখানে নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যামপাসের সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সব প্রকার বিশৃঙ্খল আচরণ ও মববাজি দ্রুত সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর