ঢাকা: বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে ভোটার তালিকার নিয়ে অস্থিরতা যেন থামছেই না। এবার ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে স্বয়ং বেসিস প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান। এতে বেসিস নির্বাচন নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ সদস্যদের বাদ দেওয়ার বিষয়টি ফের সামনে চলে এলো।
রোববার (১৭ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান তানিয়া ইসলাম বরাবর বেসিস প্রশাসকের চিঠিটি পাঠানো পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বেসিস নির্বাচন ২০২৬–২০২৮-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নানা ত্রুটি ও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ধরে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা দ্রুত সংশোধন করতে নির্বাচন বোর্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে বেসিস প্রশাসন।
বেসিস’র ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অনিয়মের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বেসিস সদস্যদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোটারের ছবির সঙ্গে তথ্যের অসঙ্গতি (ফটো মিসম্যাচ), ভুল টিআইএন নম্বর, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বকেয়া পরিশোধের পরও ভোটার তালিকায় নাম না থাকা এবং বিভিন্ন সদস্যের মেম্বারশিপ আইডিতে অসামঞ্জস্যতা। এ ছাড়া এএস-২৩ থেকে এএস-৫৪, এএস-৫৬ থেকে এএস-৭৬ এবং এএস-৭৮ থেকে এএস- ১০৭ পর্যন্ত সদস্যদের এমআইডি ভুলভাবে প্রদর্শনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব ত্রুটি বেসিস সচিবালয়ে প্রাপ্ত অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে শনাক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন বোর্ডকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
ভোটার তালিকায় নাম নেই বেসিসের ৬৭ শতাংশ সদস্যের!
উল্লেখ্য, বিগত কয়েকদিন ধরে বেসিস’র ২০২৬-২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংগঠনের প্রায় ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ সদস্যকে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সদস্য ভোটাধিকার পাচ্ছেন।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, বেসিসের মোট সদস্য ২ হাজার ৮০৫ জন হলেও ভোটার তালিকায় আছে মাত্র ৯৩৫ সদস্য। অন্যন্যা সদস্যদের অভিযোগ, নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড ও আপিল বোর্ড অস্বচ্ছ ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক সদস্যকে বাদ দিয়েছে। তাদের দাবি, এই ঘটনা বেসিসের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
বাদ পড়ার অভিযোগ, নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ ও সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার পরও অনেকের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ আপিল শুনানিতে উপস্থিত থাকার পরও আবেদন গ্রহণ না হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি সদস্যদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জানা গেছে, ভোটার হতে আবেদন করা ১ হাজার ৫০৮ জনের মধ্যে ৬৯৩ জনকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র ৩৬৫ জন আপিলের জন্য আবেদন করেছেন। আর আপিল বোর্ডের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ৫২৮ জন সদস্য আপিল-ই করেননি। অন্যদিকে আপিলকারীদের মধ্য থেকে ৩২০ জনকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন ৯৩৫ জন।
উল্লেখ্য, এবারের ভোটার তালিকায় ৫৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ‘ইনভ্যালিড’ এবং ১ হাজার ৩৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে ‘কোয়ারেন্টাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিশেষ কোনো পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ভোটার তালিকায় কারসাজি করা হয়ে থাকতে পারে।