ঢাকা: দেশে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ব্যাংক খাতে কোটি টাকার আমানত রয়েছে— এমন হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি, যা আগের তিন মাসের তুলনায় ২ হাজার ৪৪১টি বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটি টাকার হিসাব ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টিতে পৌঁছেছে।
একই সময়ে ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট হিসাব ছিল ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি, যা মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টিতে। অর্থাৎ তিন মাসে নতুন হিসাব যুক্ত হয়েছে ৪৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৫০টি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর শেষে ছিল ২১ লাখ ৫৩৩ কোটি টাকা।
কোটি টাকার হিসাবগুলোতে জমা অর্থের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এসব হিসাবে জমা ছিল ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। মার্চ শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। তিন মাসে এ ধরনের হিসাবে জমা বেড়েছে ২২ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা বাড়া মানেই সমসংখ্যক কোটিপতি ব্যক্তি বেড়েছে— এমন নয়। কারণ ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক হিসাবও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটি টাকার আমানতকারী ছিল মাত্র ৫টি হিসাব। ১৯৭৫ সালে তা বেড়ে হয় ৪৭টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টি এবং ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা পৌঁছে ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে।
পরবর্তী সময়ে বৃদ্ধির ধারা আরও ত্বরান্বিত হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটি টাকার হিসাব ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টিতে।
গত বছরের জুন শেষে এ ধরনের হিসাব ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি, সেপ্টেম্বর শেষে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি এবং ডিসেম্বর শেষে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। সর্বশেষ মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশে কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮০টি।