Wednesday 16 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বিধিমালা মেনে আইপিও আবেদনের আহ্বান জানাল বিএসইসি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:২৪

ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ভবিষ্যতে আইপিও-সংক্রান্ত বিধিমালায় কোনো সংস্কার, পরিবর্তন বা শিথিলতা আনা হলে বর্তমানে আবেদনকারী কোম্পানিগুলোকেও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সে সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসি এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিএসইসি জানায়, বর্তমানে কার্যকর ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ইক্যুইটি সিকিউরিটিজের গণপ্রস্তাব) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। তাই যেসব কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী, তাদের বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করে আবেদন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আইপিও প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে আবেদন করা বা আবেদন করতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যতে বিধিমালার সংস্কার বা প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনা করে আবেদন স্থগিত কিংবা বিলম্বিত করার প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে বিএসইসি।

অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ বা পরিচালনার জন্য নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, তবে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী, তাদের জন্য সরাসরি তালিকাভুক্তি একটি বিকল্প সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিএসইসি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সরাসরি তালিকাভুক্তি ব্যবস্থায় কোম্পানি নিজে নতুন শেয়ার ইস্যু করবে না এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও নতুন মূলধন সংগ্রহ করবে না। বরং কোম্পানির বিদ্যমান শেয়ারধারীরা তাঁদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি বা ছাড়ার মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করতে পারবেন।

এ লক্ষ্যে বিএসইসি ইতিমধ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি সিকিউরিটিজ তালিকাভুক্তি) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে। জনমত নেওয়ার জন্য খসড়াটি প্রকাশও করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।

বিএসইসি বলছে, সরাসরি তালিকাভুক্তির এই কাঠামোর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে। এতে পুঁজিবাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে।

খসড়াটি শিগগিরই গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি। এ কারণে প্রস্তাবিত সরাসরি তালিকাভুক্তির কাঠামোর আওতাভুক্ত এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।

বিএসইসির ভাষ্য, যেসব কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন রয়েছে, তারা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসতে পারে। আর যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতে চায়, তাদের জন্য সরাসরি তালিকাভুক্তি একটি সম্ভাব্য বিকল্প পথ হতে পারে।

কোম্পানির বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়িয়ে গভীর, বৈচিত্র্যময়, স্বচ্ছ ও কার্যকর পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে বিএসইসি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর