ঢাকা: আগামী ২০২৯ সালে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে দেশের প্রথম মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজ। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর বিদ্যমান চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এই বন্দরটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এখানে ৮ থেকে ১০ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এবং প্রায় ২৩০ মিটার দীর্ঘ সুবিশাল জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে, যা পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্ব নৌ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নৌপরিবহন অধিদফতর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নীতি থেকে বাস্তব প্রয়োগ: নৌ খাতে উৎকর্ষতা অর্জন’।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বর্তমানে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ লাখ টিইইউ সক্ষমতার যে বিশাল চাহিদা তৈরি হবে, তা সামাল দেবে এই গভীর সমুদ্রবন্দর। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ও সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নৌখাতে অমিত সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘ দিন তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সরকার তা দূর করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু, ডিজিটালাইজেশন এবং পণ্য খালাসের সময় কমিয়ে আনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশের নাবিকদের প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান ও পেশাগত মান বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল খন্দকার মেসবাহ-উল-আজিম বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে ব্লু ইকোনমির অফুরন্ত সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব নয়। সমুদ্রসীমার সুরক্ষা, তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের ওপর তাগিদ দেন তিনি।
সম্মেলনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার নৌপথকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এছাড়া ‘হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন’ কার্যকরের পর দেশের ২৪টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ (শিপ ব্রেকিং) ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে এবং আরও ২০টি ইয়ার্ড সনদায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও কম কার্বন নিঃসরণকারী জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর বিষয়েও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং নৌ খাতের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।