ঢাকা: রাজধানীর কদমতলী থানাধীন শনিরআখড়ার দনিয়া ব্র্যাঞ্চের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এক নারী গ্রাহকের একাউন্ট থেকে ৮৫ লাখ টাকা উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ তার মামলা বা জিডি গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী নারগিস আক্তার জানান, তিনি কদমতলী থানাধীন দক্ষিণ দনিয়ার ১৪৭৮ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা। শনিরআখড়া এলাকার আয়েশা মোশাররফ শপিং কমপ্লেক্সের দোতলা-তৃতীয় তলায় অবস্থিত দনিয়া ব্র্যাঞ্চের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে তার একটি একাউন্ট রয়েছে। যার নম্বর-৭৮২৮৬৯৭। তিনি আরও জানান, ব্যাংক একাউন্ট খোলার পর থেকে ব্যাংকে টাকা জমা ও তোলার সময় ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়া ও এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদের সহযোগিতা নিতেন। তারাই প্রায় সময় জমা বই বা চেকবইয়ে টাকার সংখ্যা লিখে উত্তোলন বা জমা করে দিতেন। তিনিও সরল বিশ্বাসে তাদের প্রতি আস্থা রেখে ব্যাংকের লেনদেন কার্যক্রম সারাতেন।
নারগিস আক্তার জানান, তার একাউন্টে বিভিন্ন সময়ে জমা দেওয়া সর্বমোট টাকার সংখ্যা ছিল এক কোটি ১০ লাখ টাকা। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর চেক বই নিয়ে জরুরি প্রয়োজনে ৫ লাখ টাকা তুলতে ওই ব্যাংকে যান। এরপর ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে ব্যাংকের এসিস্ট্যান্ট অফিসার সৌরভ সাহা তাকে টাকা উত্তোলনে সহযোগিতার জন্য তার কাছে থাকা চেক বই নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ও মোহিত মোরশেদের কাছে যান। এর আগে তাকে একটি কক্ষের চেয়ারে বসিয়ে রেখে বলেন, ম্যাডাম আপনার দৌড়ঝাঁপ দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তুলতে হবে না। আপনি বসেন, আমরাই সবকিছু লিখে টাকা তুলে দিচ্ছি। শুধু দুটি চেকের পাতায় সামনে পেছনে আপনার কয়েকটি সই দেন। সই-স্বাক্ষর দেওয়ার পর ব্যাংক কর্মকর্তা সৌরভ সাহা তার চেক বই নিয়ে ভেতরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রুমে চলে যান। কিছুক্ষণ পরই ৫ লাখ টাকা তুলে এনে চেক বইসহ তার হাতে তুলে দেন। এরপর তিনি ওই টাকাসহ চেক বই নিয়ে বাসায় চলে যান। এর প্রায় ৮-১০ দিন পর টাকা তোলার জন্য চেক বই খুলে দেখেন, চেক বইয়ের একটি পাতা নেই। বিষয়টি সন্দেহ হলে ওই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে যান। পরে তারা তাকে জানিয়ে দেন, আপনার সই দেওয়া চেক বইয়ের একটি পাতার মাধ্যমে দনিয়া এলাকার পূবালী ব্যাংকের একটি শাখায় ব্যবসার জন্য গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্র্যাফটস্ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে গত ২৩ সেপ্টেম্বর একাউন্ট নম্বর-১১৯১৫৭০৩৬০১৩৩ থেকে ক্লিয়ারিং চেকে একাউন্ট নম্বর-১৬৩২৯০১০৪০০৭৪-এ ৮৫ লাখ টাকা তার একাউন্ট থেকে ট্রান্সফার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী গ্রাহক বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৫ লাখ টাকা তোলার সময় আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, মোহিত মোরশেদের দিক-নির্দেশনা ও পরস্পর যোগসাজশে সৌরভ সাহা মিলে কৌশলে আমার সই রেখে বা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে একাউন্ট থেকে ৮৫ লাখ টাকা গায়েব করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে দনিয়া শাখার ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর পরও তারা আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। পরে পরিবার ও আত্মীয় স্বজন এবং প্রতিবেশিদের পরামর্শে কদমতলী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার অভিযোগটি গ্রহণ করলেও তা মামলা বা জিডি হিসেবেও নথিভুক্ত না করে আমাকে ফিরিয়ে দেন। এরপর পুলিশ জানায়,লিখিত অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে থানা পুলিশ এখনও এ বিষয়ে আমাকে স্পষ্ট কিছুই জানায়নি।
তিনি বলেন, এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আউয়াল-কে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দনিয়া শাখার ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ঘটনার পরস্পর যোগসাজশকারী অভিযুক্ত তিন জনের কারও কোন বক্তব্য মেলেনি। দু’জনের ফোন বন্ধ থাকলেও অপরজন ফোনকলের রিং বাজলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তারও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আউয়াল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাটি আদৌ সত্য নাকি মিথ্যা, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকের ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার আমাকে সর্বাত্বক আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আউয়াল বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করার পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে এর প্রকৃত ঘটনা জানানো সম্ভব হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এসআই আউয়াল।