Thursday 05 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বড় বিনিয়োগ করছে ইউএস-বাংলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৪৯ | আপডেট: ৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৪:২২

ঢাকা: উড়োজাহাজের বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এরই মধ্যে এ উদ্দেশ্যে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম এসব কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার এক যুগ অতিক্রম করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এয়ারলাইন্সটির বহরে রয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজ। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ২১টি বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজ সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে আরও প্রায় ১৬টি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘উড়োজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্টের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে এয়ারলাইন্সটি। বর্তমানে ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে প্রায় ৫৯০টি গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্ট। আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে আরও ১৪৬টি নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে- এয়ারক্রাফট পুশব্যাক ট্রাক্টর ও টোবার, ব্যাগেজ বেল্ট লোডার, ব্যাগেজ ট্রাক্টর, প্যাসেঞ্জার বোর্ডিং স্টেয়ারস, গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট, এয়ার স্টার্ট ইউনিট, কেটারিং ট্রাক, ওয়াটার ও ল্যাভাটরি সার্ভিস ট্রাকসহ বিভিন্ন র্যাম্প সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট।’

তিনি বলেন, ‘একটি ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা ও দক্ষ পরিচালনা শুধু উড়োজাহাজের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং আধুনিক গ্রাউন্ড ইকুইপমেন্ট, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এর অপরিহার্য অংশ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেটে আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড সাপোর্ট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এভিয়েশন ব্যবস্থার বিকাশে সরকারের ইলেকট্রিক ভেহিকেল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮০টি ইলেকট্রিক ভেহিকেল পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইউএস-বাংলা। এসব যানবাহনের চার্জিং অবকাঠামো স্থাপন প্রক্রিয়াধীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারাবিশ্বের বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে ইলেকট্রিক্ ভেহিকেলস পরিচালনার জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার নিউ ইয়র্ক-এর জেএফকে বিমানবন্দর, লস এঞ্জেলেস, মায়ামি, আটলান্টা, শিকাগো, ডালাস, টরেন্টো পিয়ারসন, কুইবেক সিটি, ইউরোপের আমস্টারডাম, ফ্রান্কফ্রুট, ম্যানচেস্টার, লন্ডন হিথ্রো, ইস্তানবুল, মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই ইন্টারন্যাশনাল, দোহা হামাদ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, পূর্ব এশিয়ার বেইজিং ক্যাপিটাল, টোকিও নারিতা, হংকং, ম্যাকাও, সিউল, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, দক্ষিএশিয়ার দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর, ওশানিয়া অঞ্চলের ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি, ল্যাটিন আমেরিকার সানটিয়াগো, বোগোটা, আফ্রিকার নাইরোবি, জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে ইলেকট্রিক ভেহিকেলস-এর জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক বলেন, ‘অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত হলে বিমানবন্দরের বিভিন্ন গ্রাউন্ড অপারেশনে ইলেকট্রিক ভেহিকেল ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি নির্ভরতা ও স্থানীয় পর্যায়ের কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গ্রাউন্ড অপারেশন গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

তিনি জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণসহ বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। সরকারের এসব উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আমরা কাজ করছি।

সারাবাংলা/এমএইচ/এমএম