রংপুর: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত তিনদিনে শিশুদের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত কিশোর ও মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিরাও ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিশোর ও বয়স্কদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে এক কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শিশুদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩৯ জন ও নতুন খোলা বয়স্কদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে সাতজনসহ মোট ৪৬ জন হামে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে রংপুর ছাড়াও গাইবান্ধা, নীলফামারী ও লালমনিরহাটের রোগী রয়েছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগের নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের মধ্যে চারজনের বয়স ১৪-১৬ বছরের মধ্যে, বাকি তিনজনের বয়স ৩৫-৫০ বছরের মধ্যে।
হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আশরাফ জামান বলেন, ‘হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ এবং শিশুদের পাশাপাশি কিশোর ও বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী হামে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
আক্রান্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রথমে তীব্র জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দেয়। পরে সারা শরীরে র্যাশ ওঠে। অনেকের মুখমণ্ডল ও মুখের ভেতরেও র্যাশ দেখা দেওয়ায় তীব্র ব্যথা হচ্ছে এবং ঠিকমতো খেতে পারছেন না তারা।
চিকিৎসকেরা জানান, হামের ভাইরাস অত্যন্ত ছোঁয়াচে। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ভাইরাস ছড়ায়, যা দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে অরক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ রোগ প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।