পারমাণবিক কার্যক্রমের সীমা নিয়ে মতভেদের জেরে পাকিস্তান সীমান্তে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ২০ বছরের জন্য ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার প্রস্তাব দিলেও তেহরান তা পাঁচ বছরের জন্য করতে রাজি হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমারের মতে, মতপার্থক্য সত্ত্বেও দুই পক্ষ সাড়ে ১২ বছরের একটি মধ্যস্থতাকারী স্থগিতাদেশে উপনীত হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এক দশকেরও বেশি সময় পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম কোনো সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দুই দেশের মধ্যকার সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা। যদিও পারমাণবিক ইস্যুতে অচলাবস্থার কারণে ইসলামাবাদের আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংলাপের পথ এখনো খোলা রয়েছে। এমনকি সোমবার থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি বন্দরে অবরোধ শুরু করার এবং সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়ার পরও একটি শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কর্মকর্তারা।
ইসলামাবাদে যা ঘটেছিল
ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। যেখানে এক পাশে মার্কিন প্রতিনিধি দল, অন্য পাশে ইরানিরা এবং মাঝখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের জন্য বসার ব্যবস্থা ছিল। নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রধান কক্ষে ফোন ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে প্রয়োজনীয় বার্তা পাঠাতে বিরতির সময় কক্ষের বাইরে যেতে হয়েছে।
বৈঠকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ছাড়াও হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়।
বিশ্বাসের সংকট
আলোচনার এক পর্যায়ে যখন নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গ্যারান্টি নিয়ে কথা ওঠে, তখন শান্ত স্বভাবের ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কিছুটা কঠোর সুর অবলম্বন করেন। রয়টার্সের সূত্রমতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করব? গত জেনেভা বৈঠকে আপনারা বলেছিলেন কূটনীতি চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করবে না।’
উল্লেখ্য, জেনেভা বৈঠকের মাত্র দুই দিন পর ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়েছিল।
সমঝোতার খুব কাছে
আলোচনা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, দুই পক্ষ চুক্তির প্রায় ৮০ শতাংশের মতো কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু কিছু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত কোনো সই হয়নি। তবে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান সকালে যোগাযোগ করেছে এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত। তিনি বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না—এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রেড লাইন এবং তার প্রতিনিধি দল আলোচনার সময় এই অবস্থানে অনড় ছিল।’