পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনার ‘জটিল বিষয়গুলোতে’ বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করছে। তবে তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচির ভাগ্য এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
দীর্ঘ সাত সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান একটি চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি সফল সমঝোতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা যাবে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বুধবার তেহরানে পৌঁছেছেন। ইসলামাবাদে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ার পর, নতুন করে সংঘাত রোধে তিনি এখন ইরানে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মুনিরের এই সফর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং দ্বিতীয় দফা আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। তবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মৌলিক বিরোধ এখনো রয়ে গেছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘চুক্তি না হলে আমরা আগের চেয়েও বেশি শক্তি নিয়ে লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত। আমরা ইরানের জ্বালানি শিল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে রেখেছি।’
সমঝোতার প্রস্তাব ও শর্তাবলী
ওয়াশিংটন চাইছে আগামী সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটিতে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলার সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান কেবল তখনই হরমুজ প্রণালী খুলবে যদি একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয় এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল আর আক্রমণ করবে না এই মর্মে জাতিসংঘের নিশ্চয়তা থাকে।
এদিকে লেবানন নিয়ে পাকিস্তান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানও এই শান্তি আলোচনার একটি অপরিহার্য অংশ হবে। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা লেবাননে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠক করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দুই দেশের শীর্ষ নেতারা কথা বলবেন।
তবে লেবাননের কর্মকর্তারা এখনই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো ফোনালাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে দক্ষিণ অঞ্চলের সঙ্গে লেবাননের সংযোগকারী সর্বশেষ সেতুটি ধ্বংস হয়ে গেছে।
পরমাণু বিতর্ক
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের মূল বিবাদ হলো ইরানের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে ২০ বছরের জন্য সব ধরনের পরমাণু কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে হবে।
অন্যদিকে ইরানের দাবি, স্থগিতাদেশ হবে ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য এবং এর বিনিময়ে সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
তবে বর্তমানে একটি আপোসের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে ইরান তাদের মজুত করা ইউরেনিয়ামের একটি অংশ দেশের বাইরে পাঠাতে রাজি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এমনকি অস্ত্র বা তেলের সন্দেহে যেকোনো জাহাজ তল্লাশি ও জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। আলোচনার সফলতার ওপর নির্ভর করে ইরান ওমান উপকূল দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এই সম্ভাব্য শান্তির খবরে বিশ্ব শেয়ার বাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যদিও তেলের বাজারে এখনো অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।