Friday 24 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্পেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ফাঁস
সদস্য দেশকে বহিষ্কারের কোনো বিধান নেই: ন্যাটো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৫৮ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০০:০৭

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ছবি: বিবিসি

ইরান যুদ্ধ ঘিরে ইউরোপীয় মিত্রদের অবস্থান নিয়ে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, ঠিক তখনই স্পেনকে ন্যাটো থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ইমেইল ফাসেঁর খবর সামনে এসেছে। তবে এই গুঞ্জন প্রকাশ্যে আসতেই জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশকে স্থগিত বা বহিষ্কার করার কোনো বিধানই নেই।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে এমন কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়া মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। একই ইমেইলে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনার কথাও উল্লেখ করা হয়।  এই দ্বীপপুঞ্জটি নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, জোটের কাঠামোতে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের কোনো সুযোগ নেই। স্পেনের প্রধানমন্ত্রীপেদ্রো সানচেজও এই প্রতিবেদন সরাসরি নাকচ করে দেন। তার ভাষায়, স্পেন “অফিসিয়াল নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতেই” সিদ্ধান্ত নেয়, কোনো অনানুষ্ঠানিক ইমেইলের ভিত্তিতে নয়।

বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে স্পেনের অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলমান সামরিক অভিযানে স্পেন তাদের ভূখণ্ডের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অথচ স্পেনেই নেভাল স্টেশন রোটা ও মরন এয়ার বেসযুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা অবস্থিত।

এই প্রেক্ষাপটে পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের জন্য সবকিছু করলেও তারা সমানভাবে পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে যাতে মিত্রদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা যায়।

একই সুর শোনা গেছে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীপিট হেগসেথ-এর বক্তব্যেও। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা তাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “কম কথা বলে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।”

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়ানো বা মার্কিন অবরোধে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যদিও যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে সীমিত সহায়তা দিয়েছে, যেমন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি এবং ড্রোন প্রতিহত করার অভিযানে অংশগ্রহণ।

অন্যদিকে মার্কিন ‘পর্যালোচনা’র প্রতিবেদনের পর ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট বলেছে, ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব যুক্তরাজ্যের হাতেই রয়েছে।

ইউরোপের অন্যান্য দেশও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ন্যাটো জোটে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে এটিকে “শক্তির উৎস” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে জার্মান সরকারও স্পষ্ট করে দিয়েছে, স্পেনের সদস্যপদ নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই।

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

উখিয়ায় ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২২:১৭

আরো

সম্পর্কিত খবর