মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। এ প্রস্তাব মার্কিন সামরিক প্রাধান্যের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নযোগ্য কিনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট তা গ্রহণ করবেন কিনা—তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে তুমুল আলোচনা।
শনিবার নতুন প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি এটি পর্যালোচনা করছেন, তবে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি-না তা নিয়ে নিশ্চিত নন। এর একদিন আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরানের দেওয়া আগের প্রস্তাব নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তেহরান প্রস্তাবটি পাকিস্তানের কাছে পাঠায়, যে দেশটি উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত করাতে ভূমিকা রেখেছিল। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের তথ্যানুযায়ী, এই ১৪ দফা পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা প্রস্তাবের জবাবে তৈরি করা হয়েছে।
তবে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ওয়াশিংটন ও তেহরান এখনও শান্তিচুক্তি করতে পারেনি। তেহরান স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান চায়, অন্যদিকে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, প্রথমে ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে কার্যত যে অবরোধ সৃষ্টি করেছে তা তুলে নিতে হবে। তাছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টিকেও ‘লাল রেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান প্রণালিতে কার্যত অবরোধ আরোপ করে। অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানি বন্দর অবরোধ উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের জাহাজে হামলা, আটক ও বাধা দেওয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে যা আছে-
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের নতুন প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন-সমর্থিত ৯ দফা শান্তি প্রস্তাবের জবাবে দেওয়া হয়েছে, যেখানে মূলত ২ মাসের যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল। তবে সর্বশেষ প্রস্তাবে ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বদলে যুদ্ধের অবসানে জোর দিয়েছে এবং ৩০ দিনের মধ্যে সব বিষয় সমাধানের কথা বলেছে।
নতুন প্রস্তাবে ভবিষ্যৎ হামলার বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, বিলিয়ন ডলারের স্থগিত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধক্ষতিপূরণ, লেবাননসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ এবং “হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামো” তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত জুনেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হওয়া ইরান ভবিষ্যতে আগ্রাসন না হওয়ার নিশ্চয়তা চায়।
এছাড়া, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর স্বাক্ষরকারী হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান, তবে ট্রাম্প পারমাণবিক ইস্যুটিকে ‘লাল রেখা’ করেছেন।
ইরান চায় দেশটির প্রতি দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক, যা তাদের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল এবং যুদ্ধক্ষতিপূরণের দাবি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবটি দেওয়ার পর উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, “এখন কূটনীতির পথ বেছে নেওয়া বা মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।”
কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেন, ইরান তাদের প্রস্তাবে ‘কিছুটা নমনীয়তা’ দেখিয়েছে।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে প্রস্তাবে কিছুটা নরম অবস্থান নেওয়া হয়েছে, বা বলা যায় আলোচনার প্রাক-প্রস্তুতিতে—সম্ভবত ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে দূরবর্তীভাবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ চলাচল অবরোধ বন্ধ করার পূর্বশর্ত থেকে সরে এসেছে।’
‘‘তবে এর বাইরে, প্রস্তাবে যেসব বিষয় রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ইরানের সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখা, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর একটি ‘নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’।’’
মাসগ্রেভ বলেন, দুটি বড় ইস্যু—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর—নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো “অনেক দূরে” অবস্থান করছে।
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনড় যে ইরানকে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে।’
নিউইয়র্কভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা সৌফান সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেনেথ ক্যাটজম্যান বলেন, ট্রাম্পের প্রতি ইরানের অবিশ্বাসই বড় বাধা।
তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক ইস্যুতে মতপার্থক্য আগের মতো বড় নয়, তবে এখনো তা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আসল সমস্যা হলো ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পকে বিশ্বাস করে না এবং অবরোধ না উঠলে তারা পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় যেতে চায় না।’
‘এটি এমন একটি সমস্যা, যা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বাড়ানোর দিকে ঠেলে দিতে পারে। ট্রাম্প জানেন তাকে প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে হবে, সেখানেই মূল সমস্যা।’
ক্যাটজম্যান বলেন, উভয় পক্ষই ‘হতাশ’, তবে শিগগিরই কেউ আলোচনার টেবিল ছাড়বে বলে মনে হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন, তবে সতর্ক করে দিয়েছেন—তেহরান খারাপ কিছু করলে ওয়াশিংটন আবার হামলা শুরু করতে পারে।
শনিবার ফ্লোরিডায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘চুক্তির ধারণা’ সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন।
কূটনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি স্বভাবসুলভ কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন।
হামলা আবার শুরু হবে কি না—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে তা ঘটার সম্ভাবনা আছে।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালো অবস্থানে আছে এবং দাবি করেন, কয়েক মাসের সংঘাত ও নৌ অবরোধে ইরান বিধ্বস্ত হয়ে পড়ায় তারা সমঝোতার জন্য মরিয়া।
কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের ত্রিতা পারসি আল জাজিরাকে বলেন, ইরানি বন্দর অবরোধের অর্থনৈতিক খরচ হোয়াইট হাউসের ধারণার চেয়েও বেশি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ক্ষতিও সম্ভবত বেশি।
পারসি বলেন, “ইরান ৪৭ বছর ধরে নানা ধরনের অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এর কোনোটিই ইরানকে ভেঙে ফেলতে বা আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি।”
শনিবার পরে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হবে বলে কল্পনা করা কঠিন, কারণ তেহরান “গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের বিরুদ্ধে যা করেছে, তার জন্য এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি।”
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসগ্রেভের মতে, ট্রাম্প সম্ভবত ‘প্রস্তাবটি না পড়েই বা পুরোপুরি ব্রিফিং না নিয়েই’ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
পূর্বের প্রস্তাব ও ব্যর্থতা
ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবটি ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ৩ সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতিতে গিয়েছে। এটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধকে সাময়িকভাবে থামিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির একদিন আগে ইরান ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনা দেয়, যেখানে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচলের প্রটোকল, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে।
ট্রাম্প ওই ১০ দফা পরিকল্পনাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব’ বললেও ‘যথেষ্ট ভালো নয়’ বলে মন্তব্য করেন। ৭ এপ্রিলের ওই প্রস্তাবটি ছিল ২৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ১৫ দফা পরিকল্পনার জবাব।
ওয়াশিংটনের পরিকল্পনায় এক মাসের যুদ্ধবিরতি, পাকিস্তানের মাধ্যমে আলোচনা, ইরানের নাটাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা, ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির অঙ্গীকার, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ)-এর কাছে হস্তান্তর, জাতিসংঘের নজরদারি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় ছিল।
তবে ইরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। দেশটি জানায়, সাময়িক যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পুনরায় আক্রমণের সুযোগ দেবে।

বর্তমান পরিস্থিতি
যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার জানিয়েছে, তারা “পূর্ণ প্রস্তুতিতে” রয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আগের চুক্তিগুলো মানতে অনিচ্ছুক।
রোববার এক্সে আইআরজিসির গোয়েন্দা ইউনিট লিখেছে, ‘এটি বোঝার একটাই উপায়—ট্রাম্পকে অসম্ভব সামরিক অভিযান বা ইরানের সঙ্গে খারাপ চুক্তির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।’
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বাধাও রয়েছে, যার মধ্যে ইরানি নৌ-মাইন রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেহরান প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, যা তেল ও গ্যাসের দামে বড় প্রভাব ফেলেছে।
ইরানকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল সব ইরানি বন্দরে অবরোধ আরোপ করে, যা জ্বালানি সংকট আরও বাড়িয়েছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১১১.২৯ ডলার, যা যুদ্ধের আগে প্রায় ৬৫ ডলার ছিল।
ট্রাম্প সম্প্রতি এই নৌ অবরোধকে “খুব লাভজনক ব্যবসা” হিসেবে বর্ণনা করায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শনিবার ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা কার্গো দখলে নিয়েছি, তেল দখলে নিয়েছি—খুব লাভজনক ব্যবসা। ভাবা যায়? আমরা যেন জলদস্যুর মতো, তবে আমরা খেলছি না।’
তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বক্তব্যকে ‘জলদস্যুতার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি’ বলে উল্লেখ করেছে। পারসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ অবরোধ উল্টো ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি খারাপ করছে। তিনি বলেন, ‘অবরোধ না থাকলেও আলোচনা চলতে পারত। বরং এটি কূটনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধা অর্জন করেছিলেন। যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর তার ওপর চাপ কমে যায়, বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চাপ। তিনি যদি সেই অবস্থায় থাকতেন, তাহলে ইরানের ওপর তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো।’
পারসি বলেন, কিন্তু অবরোধ আরোপ করে ট্রাম্প বাজার থেকে আরও তেল সরিয়ে নিয়েছেন। যুদ্ধবিরতির সময়ই তেলের দাম যুদ্ধকালীন সময়ের চেয়েও বেশি। সব অর্থনৈতিক সূচকই দেখাচ্ছে, এই অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।’
তবে তেলের সংকট সমাধানে ট্রাম্প বিভিন্ন বিকল্প খুঁজছেন, যার মধ্যে ‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট (এমএফসি)’ নামে একটি নৌ জোট গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই নৌ জোটের মূল কাজ হবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই এখনো আলোচনার টেবিল ছাড়তে চাইছে না, তবে সমঝোতার পথ কঠিন। পারমাণবিক ইস্যু, অবরোধ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার—এই তিনটি বড় প্রশ্নের সমাধান ছাড়া চুক্তি সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব শান্তির একটি সুযোগ তৈরি করলেও, তা বাস্তবে রূপ নেবে কি না—তা অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।
আলজাজিরা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে ভাবানুবাদ।