Monday 18 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠাল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ মে ২০২৬ ০০:১১

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি: এএফপি

স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফা নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শান্তি প্রস্তাবের শর্তগুলো অনেকাংশেই ওয়াশিংটন আগে যেসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল তার মতোই। তবে, এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান নরম করেছে।

পাকিস্তানি একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, শান্তি প্রস্তাবের অগ্রগতি অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে। সূত্রটি বলেছে, ‘দুই পক্ষই বারবার নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন, তেহরানের অবস্থান পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকান পক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে, তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ওয়াশিংটনও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, নতুন ইরানি প্রস্তাবটি অনেক দিক থেকেই আগের প্রস্তাবের মতো, যেটিকে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

প্রস্তাবটি প্রথমে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্ব দেবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরবর্তী দফার আলোচনায় তোলা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

তবে ওয়াশিংটনের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে ওই জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থের এক-চতুর্থাংশ ছাড় করতে সম্মত হয়েছে। এই অর্থের পরিমাণ কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলার। যদিও ইরান সব সম্পদই মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।

ইরানি সূত্রটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে ইরানকে সীমিত শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেওয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র আরও নমনীয়তা দেখিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা একটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আলোচনার সময় ইরানের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে বিমান হামলার পর শুরু হওয়া ৬ সপ্তাহের যুদ্ধের পর বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।

এর আগে ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, তেহরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে ফেলতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হবে। এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। লেবাননে বর্তমানে ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের জন্য ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’। তিনি আরও লেখেন, ‘তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, না হলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ!’

অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার ট্রাম্প শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই বলেছেন, তেহরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) হুমকির বিষয়ে বলতে চাই, নিশ্চিন্ত থাকুন—প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে সামান্যতম ভুলেরও যথাযথ জবাব কীভাবে দিতে হয়, আমরা তা খুব ভালোভাবেই জানি।’