যুদ্ধের ইতি টানতে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলুক।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোমবার (১৫ জুন) ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।
শাহবাজ শরিফের ঘোষণার পর চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। রোববার (১৪ জুন) নিজের ৮০তম জন্মদিন উদযাপনকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।’
আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘সকলকে অভিনন্দন! আমি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।’
পরে তিনি আরেকটি পৃথক পোস্টে লিখেছেন, ‘এই মহান চুক্তিটি সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বয়ে আনবে’। তিনি এও ইঙ্গিত দেন যে এর পরে ইরানের সঙ্গে আরও একটি ব্যাপক শান্তি চুক্তি হবে।
তিনি লিখেছেন, ‘আমার আগে অনেক প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করেছেন, এবং সকলেই ব্যর্থ হয়েছেন। এই অঞ্চলের নেতারা প্রথমবারের মতো এমন একজন প্রেসিডেন্টকে পেয়েছেন যিনি তাদের প্রকৃত শান্তি অর্জনে সহায়তা করতে পারেন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে মাইন অপসারণের উদ্দেশ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে। এই অঞ্চল এবং বিশ্বের জন্য আবারও উভয় দিক থেকে তেল প্রবাহিত হওয়া শুরু হবে!’
গত ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে মূলত হরমুজ প্রণালি বন্ধ ছিল।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচার করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণায় উপস্থাপক বলেছেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও ইরানি কিছু সংবাদমাধ্যমে এ চুক্তিকে ইরানের জন্য বিজয় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।