সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী বিমানের ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিমানের ভেতর হাতাহাতি হলেও অন্য দুই পাইলটের দৃঢ়তায় তেলআবিবের দিকে যাওয়া বিমানটি অল্পের জন্য ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। খবর সিএনএন’র।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। এ সময় এটির লেজের পেছনের অংশ ভাঙা দেখা যায়।
জানা গেছে, মাঝআকাশে থাকা অবস্থায় বিমানটির ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করেন কো-পাইলট। ওই সময় বিমানটি মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। তবে সৌভাগ্যক্রমে বিমানে আরও দু’জন পাইলট থাকায় তারা এটির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করান।
বিমানের ভেতর থাকা এক যাত্রীর ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন ক্যাপ্টেন। তার পুরো শরীর রক্তে ভিজে গেছে। এ সময় তিনি ফ্লোরে পড়েছিলেন। অপরদিকে যে কো-পাইলট ছুরিকাঘাত করেন তাকে বেঁধে ফেলেন যাত্রীরা।
কয়েকজন যাত্রী ক্যাপ্টেনের চিৎকার ও ঘটনা আঁচ করতে পেরে ককপিটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান ক্যাপ্টেনের শরীর রক্তে ভেজা।
সিএনএন জানিয়েছে, পাইলটদের হাতাহাতির মধ্যেই বিমানটি থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ পাঠানো হয়। সাধারণত ছিনতাইয়ের শিকার হলে হলে এমন সংকেত পাঠানো হয় বিমান থেকে।
সংকেত পাঠানোর পর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়। তবে পরে জানা যায়, ছিনতাইসংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটেনি। এদিকে সংকেত পাঠানোর পর গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি।
তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে বিমানটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং যাত্রীরাও সবাই নিরাপদ আছেন।