যুদ্ধ অষ্টম মাসে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যখন একদিকে সংঘাত বাড়ানোর প্রস্তুতি, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের কাছাকাছি জলসীমায় তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করছে দেশটি। শুক্রবার (২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাতে আল জাজিরার বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।
নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে আরও হাজার হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান যুদ্ধটি ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হওয়ায় এই সামরিক তৎপরতা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।
কী কী সেনা ও যেসব সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ গত রোববার সান দিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর এক দিন পর ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা বহনকারী মাকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (এমইইউ) যাত্রা করে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই মোতায়েনে বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য জাহাজে থাকা নাবিক ও মেরিন সেনাসহ মোট ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত হতে পারেন।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি তিনটি বিমানবাহী রণতরি এবং দুটি উভচর অবতরণকারী গ্রুপ অবস্থান করবে। তার ভাষ্য, বিপুলসংখ্যক এই সামরিক শক্তি মোতায়েনের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত বিকল্প থাকবে।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তানিয়া নুরি জানান, নতুন মোতায়েনে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে আগে থেকেই অবস্থান করা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে আরও সেনা যুক্ত হবে।
পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের বরাত দিয়ে নুরি বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যেভাবেই এগোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক বিকল্প ‘টেবিলে’ রাখাই এই মোতায়েনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এমনকি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও বর্তমানে মোতায়েন করা সামরিক সম্পদ প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা পেন্টাগনের নেই।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেছেন, ট্রাম্প নতুন করে হামলার নির্দেশ দিলে মার্কিন বাহিনী ‘যাওয়ার জন্য প্রস্তুত’ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই কতটা সামরিক উপস্থিতি রয়েছে?
কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলের অন্তত ১৯টি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের সামরিক স্থাপনার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্র কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এর মধ্যে বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি।

মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন সেনাদের একটি দল। ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সেনা মোতায়েন হয়েছিল ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে। সে সময় লেবানন সংকটের মধ্যে বৈরুতে মার্কিন সেনা পাঠানো হয়। ওই সময়ে লেবাননে সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ হাজার মেরিন ও সেনা মোতায়েন ছিল। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার সেনা অবস্থান করছিল। এসব সেনা ছিল বড় স্থায়ী ঘাঁটি এবং ছোট ছোট অগ্রবর্তী সামরিক স্থাপনায়।
চলতি বছরের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুরুতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরিসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ আরব সাগরে পাঠানো হয়।
যুদ্ধের আগে কী ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র?
উন্মুক্ত উৎসের গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং সামরিক উড়োজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ১২০টির বেশি সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এ অঞ্চলে মার্কিন বিমানশক্তির এটিই সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন।

মোতায়েন করা উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এডব্লিউএসিএস), এফ-৩৫ স্টেলথ স্ট্রাইক ফাইটার এবং এফ-২২ আকাশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠাকারী যুদ্ধবিমান। এর পাশাপাশি রয়েছে এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
সামরিক বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ফ্লাইট-ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী এসব উড়োজাহাজের অনেকগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছে। তাদের সহায়তায় রয়েছে কার্গো উড়োজাহাজ ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তৎপরতা শুধু নিয়মিত বাহিনী পরিবর্তনের বদলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কার্যক্রমের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
৭ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন
মার্চে পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও মার্কিন বাহিনী পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এই শক্তিবৃদ্ধিতে তিনটি পৃথক বাহিনী ছিল, যাদের প্রত্যেকটির উৎস, রুট ও সময়সূচি ছিল ভিন্ন। প্রথমটি ছিল ত্রিপোলি অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ। এর কেন্দ্র ছিল আমেরিকা-শ্রেণির অ্যাসল্ট জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি এবং ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (এমইইউ)।
দ্বিতীয়টি ছিল বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ। এর কেন্দ্র ছিল ওয়াস্প-শ্রেণির অ্যাসল্ট জাহাজ ইউএসএস বক্সার এবং ১১তম এমইইউ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত। এই দুই মেরিন গ্রুপ মিলিয়ে ওই অঞ্চলে আরও প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মেরিন ও নাবিক যুক্ত হয়েছে।
তৃতীয়টি ছিল উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থানরত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্সের প্রায় ২ হাজার সেনার একটি দল। এই এয়ারবোর্ন পদাতিক ডিভিশনের মূল সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে প্যারাশুটের মাধ্যমে দ্রুত মোতায়েন হওয়া।
সব মিলিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৭ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।
সর্বশেষ সেনা মোতায়েন যে বার্তা দিচ্ছে
নতুন করে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়ানোর সরাসরি ইঙ্গিত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমা হামলা বাড়ানো সম্ভব।
টাইম আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাকে সেটা বলতে পারি না। কারণ দেখুন, আপনি তো জানতে চাইছেন, কোথায় বোমা ফেলতে যাচ্ছেন?’
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ওয়াশিংটনের একটি কৌশলও হতে পারে।
ইরানের নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের
গত সপ্তাহে ইরান ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি নতুন প্রস্তাব পাঠায়। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানায় তেহরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সমঝোতায় যাওয়ার আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ এতে এমন কিছু বিষয় ছিল, যেগুলো তিনি এক বছর আগেও অনুমোদন করতেন না এবং আজও করবেন না।’
সামরিকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন
ইরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। চলতি সপ্তাহে ইরানের রেল ও গাড়ি শিল্পের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য তেহরানের অবশিষ্ট রাজস্বের উৎসও সংকুচিত করা।
এর আগে গত মাসে ইরানের ওপর ব্যাপক নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে- এমন অন্যান্য দেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে?
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব আলোচনায় এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যতম অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে ছিল।
ওই আলোচনায় ইরান কাতারের মাধ্যমে ৭ দিনের একটি রোডম্যাপের প্রস্তাব দেয়। এর আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনা আবার শুরু করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং লেবানন ও ইয়েমেনকে অন্তর্ভুক্ত করে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়। ট্রাম্প এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এনবিসিকে বলেন, ‘ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার দাবিতে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘এগুলো শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নয়… এগুলো বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা।’
পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৭টি প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এনবিসিকে বলেন, ‘তেহরান যুদ্ধ আবার শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ পরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা যুদ্ধ বিক্রি করতে নিউইয়র্কে আসিনি। আমরা শান্তি গড়তে এসেছি।’
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংঘাত খুব শিগগিরই শেষ হবে। তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তিনি কঠোর পরিণতির হুমকিও দেন।
টেক্সাসের ডেন্টনে পিটারবিল্ট মোটরসের একটি কারখানায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান হয় খুবই সঠিক ও বুদ্ধিমান কিছু করবে, নয়তো তারা খুব বেশিদিন টিকে থাকবে না।’
চুক্তি হলে ইরান তা মেনে চলবে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি যখন এই কোম্পানির সঙ্গে কোনো চুক্তি করি, তখন আপনারা সেটি মেনে চলবেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে যখন আপনি কোনো চুক্তি করেন, তখন খুব সম্ভব যে তারা সেটি মেনে চলবে না।’