Sunday 19 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জুলাইয়ে অস্ত্র হাতে হত্যাযজ্ঞে জড়িত শামীম ওসমান: প্রসিকিউশন

স্টাফ করেসপন্ডেট
১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৮ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪০

ঢাকা: চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান সরাসরি অস্ত্র হাতে নিয়ে হত্যাযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলার শুনানিতে এমন অভিযোগ তুলেছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে মামলার ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ আবেদন উপস্থাপন করা হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান আদালতে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক অভিযোগ রয়েছে এবং এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। তবে আসামিপক্ষ ডিসচার্জ (অভিযোগ থেকে অব্যাহতি) চেয়ে সময় আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল শুনানির জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রসিকিউটর পালোয়ান বলেন, আন্দোলন দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো একটি পরিকল্পিত কার্যক্রমের অংশ ছিল এবং এতে শামীম ওসমান সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি নিজেও অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমোদন নিয়ে নিজস্ব সশস্ত্র গ্রুপসহ অন্যান্য আসামিদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জে সহিংসতা চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রমাণ হিসেবে প্রসিকিউশন ১৮টি ভিডিও ফুটেজ, একটি অডিও রেকর্ড এবং প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার নথি আদালতে জমা দিয়েছে। এছাড়া ৬১ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর তালিকাও দাখিল করা হয়েছে। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হবে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে শামীম ওসমান ছাড়াও তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। বর্তমানে সবাই পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দিয়েছে আদালত।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া, সাইনবোর্ড ও আশপাশ এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল ও ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় ঘটনায় ২১ জুলাই ফতুল্লার ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিব নিহত হন। তৃতীয় ঘটনায় ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যা করা হয়।

উল্লেখ্য, এসব ঘটনায় ১২ আসামির বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই দিন অভিযোগ গ্রহণ করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল-১।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর