ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদ।
রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিত ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় ২৬তম সাক্ষী হিসেবে নাসের উদ্দিন আদালতে হাজির হয়ে তদন্তকালে জব্দ করা বিভিন্ন আলামতের বিস্তারিত তুলে ধরেন। কোন তারিখ ও সময়ে এসব আলামত জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়গুলোও নথিভুক্ত করা হয়। তবে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হওয়ায় আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) দিন ধার্য করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরা।
মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম চলছে। এরইমধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য পলাতক আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান আদালতে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আদালত গ্রহণ করে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং প্ররোচনা দেন। তারা নেতাকর্মীদের মাঠে নামিয়ে সহিংস প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।