Tuesday 19 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গুলিতে না মরলেও ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার হুমকির অভিযোগ

সারাবাংলা/টিএম/এসআর
১৯ মে ২০২৬ ১৭:৩৪

জুলাই আন্দোলন ২০২৪ – ফাইল ছবি

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার পরও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট লোকজন চিকিৎসকদের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘গুলি করেছি, মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’ এমন ভয়াবহ অভিযোগ উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া এক সাক্ষীর জবানবন্দিতে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার এর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে ওই সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। একই বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

বিজ্ঞাপন

নিরাপত্তার কারণে সাক্ষীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রামপুরা থানার পাশের মেরাদিয়া কাঁচাবাজার এলাকায় ছাত্র আন্দোলন দেখতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাচ্ছে। এতে কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন।

সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে বাসায় ফেরার সময় পেছন দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি তার কোমরের নিচে লাগে এবং শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ ভর্তি করেন।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই রাতে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কিছু লোক হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের ভয়ভীতি দেখায়। তারা আহতদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘এদের গুলি করা হয়েছে, মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।’ এরপর তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রও দেওয়া হয়নি।

তিনি দাবি করেন, বাসায় ফেরার পরও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। পরে স্থানীয় এক নির্দলীয় ব্যক্তির সহায়তায় তিনি অন্যত্র আশ্রয় নেন এবং নিজ খরচে ফরাজি হাসপাতাল এ চিকিৎসা চালিয়ে যান।

সাক্ষী তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার জন্য বিজিবির রেদোয়ান, রাফাত, পুলিশের রাশেদ এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানকে দায়ী করেন। বর্তমানে তিনি কাজ করার সক্ষমতা হারিয়েছেন বলেও আদালতে জানান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।

মামলায় মোট চারজন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়ে সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম এবং মেজর মো. রাফাত বিন আলম।

অন্যদিকে পলাতক রয়েছেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মঈনুল করিম ও মার্জিনা রায়হানসহ অন্যরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর