Monday 28 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দুদকের প্রেস ব্রিফিং চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদের রিট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫১

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

ঢাকা: দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিংয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে বক্তব্য দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

একই সঙ্গে অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেন আসিফ মাহমুদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা।

বিজ্ঞাপন

রিটে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের দেওয়া প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোনো বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং না করতে দুদককে নির্দেশনা এবং ইতোমধ্যে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে করা এ রিটে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে। রিটটির নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপপরিচালক জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ এবং এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রিটকারীর দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়ে কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে ঘোষণা করার আইনগত এখতিয়ার দুদকের নেই। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার ফলাফল সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরি করতে পারে।

আবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল বলে জানান। তবে এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তা আমলে না নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করেন বলে রিটে দাবি করা হয়েছে। ওই ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ আরও কয়েকটি অভিযোগের কথা বলা হয়।

রিটে আসিফ মাহমুদ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন।

আবেদনে বলা হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মন্ত্রণালয়ের আদেশের মাধ্যমে হয়েছে। অন্যদিকে ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি কার্যকর হয় ২০২৬ সালের ১১ মে, অর্থাৎ আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর। ফলে ওই পদোন্নতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ আইনগত ও বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয় বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিটে আরও দাবি করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। এতে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ধরনের কার্যক্রম সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর পরিপন্থি বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।

সারাবাংলা/টিএম/এসএস
বিজ্ঞাপন

কাঁঠাল পাতায় তালের পিঠা
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৩০

আরো

সম্পর্কিত খবর