ঢাকা: দেশের পাঁচ জেলা শহরে পুকুরের অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। শহরগুলো হলো—বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম। একই সঙ্গে এসব শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত এ বিষয়ে চার সপ্তাহের রুলও জারি করেছেন। রুলে পাঁচ জেলা শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুর সংরক্ষণে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং পুকুরগুলো রক্ষায় কার্যকর নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২০০০ সালের জলাধার সংরক্ষণ আইনের ৬ ধারা লঙ্ঘন করে পুকুরের শ্রেণি বা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন এবং ভরাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিজ নিজ জেলায় সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এসব কমিটি গঠন করতে হবে।
রেকর্ডভুক্ত কোনো পুকুর যাতে নতুন করে দখল বা ভরাট করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কমিটিগুলো। এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আদালতের আরেক নির্দেশনায়, পাঁচ জেলা শহরে সিএস ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী মোট কতটি পুকুর রয়েছে, তার তালিকা হলফনামা আকারে তিন মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী নাসরিন সুলতানা।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম ইমামুল মুশফিকুর।