Thursday 05 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আমু-শাজাহানসহ ৬ জনকে হাজিরের নির্দেশ, মির্জা আজমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:৩০

মির্জা আজম ,আমির হোসেন আমু ও শাজাহান খান । কোলাজ ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুসহ ৭ নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ৬ আসামিকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর পলাতক থাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম-এর বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিজ্ঞাপন

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তাকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মার্জিনা রায়হান, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্য প্রসিকিউটররা।

শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম মামলার অভিযোগগুলো তুলে ধরে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে বিবেচনায় তা আমলে নেওয়ার আবেদন করেন। পাশাপাশি কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট এবং মির্জা আজমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুনে সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ছয় আসামিকে হাজিরের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মির্জা আজমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তাদের মধ্যে মির্জা আজম ছাড়া বাকি ছয়জন কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে গত ২ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। তাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হামলা, উসকানি ও হত্যাযজ্ঞে ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁরা ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে অংশ নিয়ে আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কারফিউ জারি এবং কারফিউকে কাজে লাগিয়ে হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় বলে দাবি প্রসিকিউশনের।

এ মামলায় আমির হোসেন আমুসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগও এনেছে প্রসিকিউশন।