Tuesday 06 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জিয়াউলের বিরুদ্ধে গুম-খুনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য আজ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০১

জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার অবশিষ্ট সাক্ষ্য দেবেন মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন তিনি আংশিক জবানবন্দি দেন। বাকি অংশের জবানবন্দির জন্য ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে ওই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ না হওয়ায় আজ নতুন করে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রসিকিউশনের দাবি, ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ হলে মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়ে যাবে। তবে আসামিপক্ষ চাইলে সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ পাবে।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর জিয়াউল আহসানের মামলায় সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম। তদন্তের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা আলামত ও সেগুলোর তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন তিনি। একই দিন মামলার ১৩তম সাক্ষী র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি এ মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী ছিলেন। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগের সময়কাল ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল। এ সময়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগেও একই সময়কালে ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।

এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একই দিন তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্ব শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। এরপর মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর