ঢাকা: গুলশান-২ আবাসিক এলাকায় ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন মামলার বাদী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাত জবানবন্দি দেন।
পরে আসামি মাহবুবুল হকের পক্ষে আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন। জেরা শেষ না হওয়ায় বাকি জেরার জন্য আগামী ১ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
এর আগে, গত ৬ জুলাই মামলাটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম, প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক, কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার, ইফফাত হক এবং তার স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল মঈন।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নম্বর, হোল্ডিং নম্বর ২৯, রোড নম্বর ১০৪-এর ২৭ কাঠা জমিটি সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পত্তিটি অবমুক্ত না করেই জাল ও ভুয়া রেকর্ডপত্র তৈরির মাধ্যমে হস্তান্তর এবং নামজারির সুযোগ তৈরি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। জাল রেকর্ডপত্রের ভিত্তিতে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুলশানে পরিত্যক্ত প্লট দখলের অভিযোগে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। ওই মামলায় প্রথমে সালাম মুর্শেদীকে আসামি করা হয়নি। পরে তদন্ত শেষে গত ৩১ ডিসেম্বর সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
গত বছরের ১ অক্টোবর সালাম মুর্শেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলায় আনা অভিযোগের বিচারিক সত্যতা এখনো নির্ধারিত হয়নি। সাক্ষ্যগ্রহণ ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।