Wednesday 22 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিগত ১৪ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:২৪ | আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫০

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত ১৪ বছরে অর্থাৎ ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পাচারের বিষয়টি উঠে এসেছে। পাচারকৃত এই বিপুল অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের আইনি ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থপাচারের এই ভয়াবহ ঘটনাগুলো তদন্তে ও পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি শক্তিশালী আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স প্রাথমিকভাবে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মামলাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করেছে। এসব মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

তিনি আরও জানান, তালিকায় আরও নাম রয়েছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ এবং এইচ বি এম ইকবাল ও তার পরিবারের। সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধেও পাচার সংশ্লিষ্টতায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন।

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু পাচারকৃত অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে, তাই সেই দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় এবং সম্পদ শনাক্তকরণে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। অর্থপাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই তিন দেশ ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। বাকি সাতটি দেশের সঙ্গেও দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।’

সংসদকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পাচার করা সম্পদ ফিরিয়ে আনা একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়া হলেও সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। চিহ্নিত ১১টি মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের বিদেশে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহের কাজ চলছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বজায় রেখে দেশের প্রতিটি পয়সা ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে তা কাজে লাগানো হবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর