Thursday 07 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সংরক্ষিত নারী আসনের গেজেট প্রকাশ বৃহস্পতিবার: রিটার্নিং কর্মকর্তা

‎সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫৭ | আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৮

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন রিটার্নিং অফিসার মঈন উদ্দীন খান।

ঢাকা: ‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল এ আসনের গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন-ইসি।

‎বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান এ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান।

‎তিনি জানান, বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন ও স্বতন্ত্র জোটের একজন সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। বলেন, ৪৯ জন প্রার্থীর বৈধ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের নাম কমিশনে উপস্থাপন করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

‎বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এসব সংসদ সদস্যদের নাম, ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা নেবে ইসি সচিবালয়। এরপর শপথ আয়োজনের জন্য সংসদ সচিবালয়ে গেজেট পাঠানো হবে।

‎ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (প্রত্যাহারের সময় সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা) কোনো প্রার্থী প্রত্যাহারের আবেদন করেন নি। শূন্য পদের সমান পদে মনোনয়নপত্রও সমান হওয়ায় আইন অনুযায়ী আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) গেজেট প্রকাশ করবো। ”

এরই মধ্যে এনসিপির মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আর একজনের মনোনয়নপত্র আদালতে গ্রহণের জন্য আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার বলেন, “ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে একজন আপিল করেছেন এমন তথ্য এখনও আমাদের কাছে নেই। আরেক প্রার্থী নূসরাত তাবাসসুমের রায়ের কপি দিয়ে গেছেন। ইসি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছে। এখন তা নিষ্পত্তি করা হবে। যদি শূন্য হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবো।”

‎উল্লেখ্য, ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল। নির্ধারিত সময়ে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন ৫০টি আসনে। বাছাইয়ে বাদ পড়েন ৪ জন; এরমধ্যে জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির মনিরা শরামিন ও জোটের বাইরে তিনজন ছিলেন।

‎বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হয়েছে বুধবার বিকাল চারটায়।

‎১২ মে এ নির্বাচনের ভোটের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রতি আসনের বিপরীতে একক প্রার্থী থাকায় বরাবরের মতো এবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন বিএনপির ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন ও স্বতন্ত্র ১ জন।

‎বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা হলেন, সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোছাম্মৎ ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা।

‎জামায়াতে ইসলামী জোটের ১২ জন নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছে জামায়াত আটজন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিষের একজন, জাগপা’র একজন, একজন জুলাই শহিদ জাবির ইব্রাহিমের মা। তারা হলেন, জামায়াতের নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, মারদিয়া মমতাজ, জুলাই শহিদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, এনসিপির মাহমুদা আলম মিতু, জাগপার তাসমিয়া প্রধান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাহবুবা হাকিম।

বিজ্ঞাপন

‎এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের বৈধ প্রার্থী হচ্ছেন সুলতানা জেসমিন।

‎এমন পরিস্থিতিতে একটি নারী আসন শূন্য হলে আসনটির জন্য কবে তফসিল ঘোষণা করা হবে বা আদালতের আদেশে একজন যুক্ত হওয়ার পর করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ইসি।