ঢাকা: বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ (১ মে)। বৌদ্ধ শাস্ত্র মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের এই তিথিতেই গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বোধিজ্ঞান লাভ করেছিলেন এবং মহাপরিনির্বাণ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। এই ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে বুদ্ধপূর্ণিমা হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
গৌতম বুদ্ধের মূল জীবনদর্শন ছিল অহিংসা, সাম্য ও মৈত্রী। তিনি শিখিয়েছিলেন যে হিংসা দিয়ে কখনো হিংসাকে জয় করা যায় না। বরং, অহিংসা ও প্রীতি দিয়েই জগতের সকল বৈরিতা দূর করতে হয়। এই মহান আদর্শকে বুকে ধারণ করে আজ সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, পিণ্ডদান এবং ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে।
রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় বুদ্ধপূজা ও শীল গ্রহণ এবং সন্ধ্যায় বুদ্ধপূর্ণিমার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই শুভ দিন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সচিবালয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’ তিনি বৌদ্ধধর্মের পঞ্চশীল নীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘প্রাণী হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা ও মাদক থেকে বিরত থাকার এই শিক্ষা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর।’
এদিকে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় এক বার্তায় জানিয়েছেন, এবারের বুদ্ধপূর্ণিমায় তাদের বিশেষ প্রার্থনা হলো পৃথিবীতে যুদ্ধ ও হানাহানি বন্ধ হওয়া এবং বাংলাদেশে সকল নাগরিকের বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা। দেশের সকল বিহারে সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিশ্বশান্তি কামনা করা হচ্ছে।