ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এবং প্রত্যাবাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেবল মানবিক বিবেচনায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্প্রতি অর্থ বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়ন ও মানবিক চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।
রোহিঙ্গা শিবিরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকালে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি বলেন, অত্যন্ত সীমিত জায়গায় বিপুল জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে শরণার্থীরা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক ও ভূ-প্রাকৃতিক বাস্তবতায় ক্যাম্পের আয়তন বৃদ্ধি করা অনেক কঠিন। সমস্যা সমাধানে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজা সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলোর কারণে রোহিঙ্গা সংকট যেন বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরের বাইরে চলে না যায়। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আলোচনার মূল অ্যাজেন্ডায় রাখতে জাতিসংঘ ও ইউএনএইচসিআর-কে আরো জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।
ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি আগামী ২০ মে অনুষ্ঠাতব্য রোহিঙ্গা শরণার্থী সংক্রান্ত ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রীকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।