Sunday 24 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৪ মে ২০২৬ ২১:৩৯

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

ঢাকা: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক ও জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (২৪ মে) জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জনগণের পরম প্রিয়জন এবং তার ১২৭তম জন্মবার্ষিকীতে চির-অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর পাশাপাশি অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাকে স্মরণ করছি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত ও পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। মুমূর্ষু জাতিকে জাগিয়ে তুলে সামগ্রিকভাবে সচেতন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য যে সর্বপ্লাবী প্রতিভার দরকার হয়ে পড়েছিল, জাতীয় কবি ছিলেন সেই প্রার্থিত ও বহু কাঙ্ক্ষিত প্রতিভা।’

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলামের পুরো জীবনটাই যেন ছিল এক যুদ্ধ ঘোষণা, তথা অনন্য সাধারণ বিদ্রোহ। এবং এই বিদ্রোহ ছিল ঔপনিবেশিক শাসন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে। মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও নারীমুক্তির জন্য তার চেয়ে বেশি শিল্পসফল শব্দ আর কেউ রচনা করেননি।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের প্রথম কবি, সাংবাদিক ও রাজনীতিক যিনি ঔপনিবেশিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে উপমহাদেশের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেন এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে মানুষের প্রতি তার দরদ ও দীপ্ত অঙ্গীকার ছিল সম্পূর্ণ তুলনাহীন। মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও তিনি আমাদের অন্যতম প্রধান দিশারি এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে সর্বদা আমাদের প্রধান পাথেয় হিসেবে তার প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন কখনো ফুরানোর নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলা কাব্য-সংগীতে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়ে মাত্র দুই দশকের সাধনা দিয়ে তিনি জাতিকে আত্মপ্রত্যয়মণ্ডিত করে গেছেন এবং নির্মাণ করে দিয়ে গেছেন জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মজবুত পাটাতন। বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা এবং তিনি বিশ্ব কবিসভার গুরুত্বপূর্ণ নায়ক হওয়ার পাশাপাশি সারা পৃথিবীর নিঃস্ব, রিক্ত ও মজলুম মানুষের আত্মার আত্মীয়।’

জাতীয় কবির জন্মদিনে অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সুখী-সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক মাতৃভূমির জন্য নিজেদের নিবেদিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর