Wednesday 10 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চার খাতে অতিরিক্ত ৪২৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকির চাপ: অর্থমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১০ জুন ২০২৬ ০৮:৩৮

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত প্রায় ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে সংঘাতের কারণে কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্সপ্রবাহ ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবসংক্রান্ত এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে এবং প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন মাস পর্যন্ত শুধু এই চার খাতেই অতিরিক্ত প্রায় ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে। অতিরিক্ত ভর্তুকির খাতওয়ারি হিসাব উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মধ্যে তেল খাতে প্রায় ১০ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা, গ্যাস খাতে ১১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ খাতে ১৯ হাজার ৮২১ কোটি টাকা এবং সার খাতে ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তাৎক্ষণিক ও সম্ভাব্য উভয় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত এর প্রভাব প্রধানত জ্বালানি, সার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আমদানি ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিদ্যুৎ, পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যয় বাড়িয়ে বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান কর্মক্ষেত্র হওয়ায় যুদ্ধের কারণে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপরও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে ।

পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অবলম্বন এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর