ঢাকা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের গ্রামীণ অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ৪১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের বিশেষ প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই খাতের মহাপরিকল্পনা ও বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নগর ও প্রান্তিক সেবার সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই ও সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- জলাবদ্ধতা নিরসন ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন
নাগরিক জীবনকে স্বস্তিদায়ক করতে দেশের সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাল পুনঃখনন, ড্রেন সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা জোরদার করার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, সুপেয় পানির সরবরাহ বৃদ্ধি, উন্নত ড্রেনেজ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সেসঙ্গে গ্রামীণ এলাকার অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন এলাকায় নতুন গ্রোথ সেন্টার ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নাগরিক সেবা সহজ করতে ডিজিটাল জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
- পল্লী উন্নয়ন, সমবায় ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি
গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী, যুবক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকে এই বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, নারী এবং যুবকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেসঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।