ঢাকা: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় শিক্ষা খাতে প্রায় ৩৬ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকারভুক্ত খাতের মধ্যে শিক্ষা খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই মেগা বরাদ্দ ও নতুন শিক্ষা-পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপি’র ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের জন্য এই বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ২ শতাংশ। এছাড়া পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেট কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। যেখানে পরিচালনা ব্যায় ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৪৪০ টাকা। যেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমাণ ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। এই বিভাগের পরিচালন ব্যয় ৩২ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২৪ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিলো ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা।
এদিকে, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য মোট ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে পরিচালন ব্যয় ১১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৬ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এই খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ছিলো ১২ হাজার ৬৭৮ হাজার কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।