ঢাকা: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বৈদেশিক খাত নিয়ে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঠিক করছে সরকার। একদিকে রফতানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রাা ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে আলোচিত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত হিসাবে রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ধরা হয়েছিল। কিন্তু আগামী অর্থবছরে সেটিকে ৫১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, একবছরে প্রায় ১৮ থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে তার বাজেট বক্তৃাতায় এ মহাপরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূচক অনুযায়ী চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত হিসাবে পণ্য ও সেবা রফতানি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ ধরা হলেও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তা কমিয়ে ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত গত কয়েক বছরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাহিদা দুর্বল হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং তৈরি পোশাক খাতে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে একটি বাস্তবভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে চেয়েছে, যা অর্জনযোগ্য।’
অবশ্য একই সময়ে আমদানি ও সেবা প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, গত দুই বছর ধরে ডলার সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ কার্যত আমদানি নিয়ন্ত্রণের নীতি অনুসরণ করেছে। ফলে শিল্প খাতে কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে চাপ তৈরি হয়। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারেনি। বিনিয়োগও মন্থর হয়েছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বৈদেশিক খাতের ভারসাম্য রক্ষার প্রধান চালিকাশক্তি হবে প্রবাসী আয়।
গত একবছরে দেখা গেছে, বিনিময় হার আংশিক বাজারভিত্তিক, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সেই ইতিবাচক প্রবণতার ধারাবাহিকতা ধরেই আগামী অর্থবছরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে শুধু প্রণোদনা যথেষ্ট নয়, মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য শ্রমবাজারে নতুন কর্মী পাঠানোর গতি বাড়াতে হবে। দক্ষ শ্রমশক্তি রফতানি ও বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এ ছাড়া প্রবাসী আয়ে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা অপরিবর্তিত চালু রাখা হয়েছে।