Saturday 13 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সামনে উন্নয়ন কাজে তহবিল আরও কমতে পারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
১৩ জুন ২০২৬ ১৫:০০

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোতে তহবিলের প্রাপ্যতা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন ও উন্নয়ন ব্যয়ে। বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তহবিল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এর ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং আগামী বছরগুলোতে তহবিল আরও কমে যাওয়ার দ্বিতীয় দফা প্রভাব দেখা দিতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জ্বালানি সমিতির সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বর্তমান জ্বালানি সংকটের মাত্রা আগের ৩টি বড় তেল সংকটের চেয়েও বিস্তৃত হতে পারে। এমন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও উন্নয়নকে কেন্দ্র করে নতুন সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে।’

ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি বিনিয়োগ পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো তুলনামূলক কম সুদে ঋণ নিতে পারলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অনেক বেশি হারে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা অর্থায়নকে সীমিত করছে।’

জলবায়ু ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো অতিরিক্ত সুদের বোঝায় পড়ছে, যা বৈদেশিক ঋণ ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।’

বৈশ্বিক ঝুঁকিগুলো সফলভাবে মোকাবিলায় অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর দিতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করবে সরকার।’

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে টেকসই, স্বচ্ছ এবং পূর্বাভাসযোগ্য নীতিগত পরিবেশ তৈরি করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

এ সময় প্রথাগত খাতের বাইরে গিয়ে সরকার দেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করবে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা- এআই, সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া খাতের মতো উদীয়মান বৈশ্বিক ক্ষেত্রগুলোতে সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে সফলভাবে তুলে ধরতে হবে।’

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্র নীতির অধীনে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচিকে সামনে রেখে সম্মেলনে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কূটনীতি অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে অর্থবহ সংলাপ ও মতবিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে।

সম্মেলনে ৩টি বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন (থিম্যাটিক প্লেনারি সেশন) অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম অধিবেশন ‘দ্য পলিসি কম্পাস’-এ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নীতিগত দিক নিয়ে আলোচনা হবে। দ্বিতীয় অধিবেশন ‘ক্যাপিটাল ফর গ্রোথ’-এ বিনিয়োগ ও অর্থায়ন বিষয়ক আলোচনা হবে। তৃতীয় অধিবেশন ‘দ্য নিউ স্টেজ-এ এআই, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি অ্যান্ড স্পোর্ট’-এ নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি এবং উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সম্মেলনের লক্ষ্য হলো সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধি এজেন্ডাকে এগিয়ে নেয়া।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর