ঢাকা: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি তীব্র রূপ নিয়ে দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে। এটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এটি ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে এগিয়ে এসে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মাঝখান দিয়ে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এরই মধ্যে সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি)।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় বাংলাদেশের চার প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সাগর উত্তাল থাকার পাশাপাশি উপকূলীয় জেলাগুলো এবং এর আশপাশের অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মঙ্গলবারের (২২ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টায় এই নিম্নচাপটি পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল। অবস্থানগত বিচারে এটি ভারতের ওডিশার গোপালপুর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপট্টনম থেকে ২০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, পুরী থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পূর্বে ছিল।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা অনুযায়ী, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে ক্ষিপ্র গতিতে স্থলভাগের দিকে ধাবিত হতে পারে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় কিছু এলাকায় ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বর্ষণ হতে পারে। এর সাথে যুক্ত থাকবে ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগের বিধ্বংসী ঝোড়ো বাতাস। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় ওডিশা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে খুরদা, গঞ্জাম, গজপতি ও জগৎসিংপুর জেলায় সবধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের এই নিম্নচাপের পরোক্ষ প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী, পাবনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত নির্দেশ করা হয়েছে।
অপরদিকে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর এখনও এই প্রাকৃতিক দুর্যোগটিকে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড় ঘোষণা করেনি। তবে এটি যদি আরও শক্তি বৃদ্ধি করে শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তবে বঙ্গোপসাগরে গঠিত এই ঝড়ের নাম হবে ‘অর্ণব’। সমুদ্র নির্দেশক এই বিশেষ শব্দটি বাংলাদেশের দেওয়া আন্তর্জাতিক সাইক্লোন নামকরণের তালিকায় সংরক্ষিত রয়েছে। সবমিলিয়ে বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আবহাওয়াবিষয়ক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো।